অন্য বিদ্যালয়টিতেও ১৫ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। বিদ্যালয় দুটি হলো উপজেলার চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়। পরপর দুই বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হার বেশ কম। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও নানা অব্যবস্থাপনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার পরিবেশে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও পাঠদানের মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছতে পারছে না। তবে শিক্ষকরা বলছেন, অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষক সংকট আর শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় ফলাফলে এমন বিপর্যয় হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে নয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ২৯ জন। গত বছর যেখানে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার সেখানে পাসের হার নেমে এসেছে শূন্যে।
অন্যদিকে ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০২২ সালে এমপিও-ভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টিতে মাত্র চারজন এমপিও-ভুক্ত শিক্ষক নিয়মিত। শিক্ষক সংকটে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ ২০২৫ সালে এ বিদ্যালয় থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১ জন পাস করেছিল। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমে শূন্যে নেমে আসায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু পরীক্ষার সময় ভালো ফলের প্রত্যাশা করলেই হবে না; শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে কিনা, শ্রেণীকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কিনা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সহায়তা দেয়া হচ্ছে কিনা—এসব বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। তারা দুটি বিদ্যালয়ের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে শিক্ষকতা, পাঠদানে উদাসীনতা ও ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের নানা সমস্যা রয়েছে। আমরা জুনিয়র স্কুল হিসেবে এমপিও-ভুক্ত। ফলে নবম-দশম শ্রেণী পর্যায়ে ভালো শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। আশা করি আগামীতে আমরা ভালো ফলাফল করব।’
যোগাযোগ করা হলে ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার শিক্ষার্থীরা একটু দুর্বল ছিল। আগামীতে আমরা ভালো করব। আমার নতুন এমপিও-ভুক্ত স্কুল, মাত্র চারজন শিক্ষক। এটা একটা বড় সমস্যা। এ কারণেই স্কুলটা জরাজীর্ণ।’
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’