বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম দামে জনগণকে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী মনে বরেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই টিআইবি টিকা সম্পর্কিত এ প্রতিবেদন দিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে টিকা দিয়েছি বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। উল্টো আমরা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে জনগণকে টিকা দিয়েছি। এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথ্য দিয়ে থাকলেও সেটা সঠিক নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, একটা সংস্থা তাদের মতামত প্রকাশ করতেই পারে। যেহেতু এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
এরই মধ্যে ১৩ কোটি প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ ১১ কোটি ৬০ লাখ এবং বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষকে। ভারত থেকে যে দামে টিকা কেনা হয়েছিল, অন্যান্য দেশ থেকেও কাছাকাছি দামে টিকা কেনা হয়েছে বলে জানান জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের টিকা কেনা এবং আনা-নেয়ার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর বাকি টিকার দাম ২০ হাজার কোটি টাকার মতো, যেগুলো সরকার বিনামূল্যে পেয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। তাই টিকা বাবদ খরচ নিয়ে টিআইবির তথ্য সঠিক নয়।
টিআইবি করোনার দুই বছরের সার্ভে করেনি। তারা শেষ ৮ মাসের সার্ভে করেছে জানিয়ে সরকারের এ আইনপ্রণেতা আরো বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো হাসপাতাল নেই যেখানে অক্সিজেন নেই। অক্সিজেন না পেয়ে মানুষ মারা গেছে- টিআইবির প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্যও সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, তারা সার্ভে করেছে ১০৫টি টিকা কেন্দ্রকে ভিত্তি করে। যেখানে টিকা কেন্দ্র ছিল ১ লাখের ওপরে। ১ হাজার ৮০০ লোকের মধ্যে সার্ভে হয়েছে। যেখানে ১২ কোটির ওপরে মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের সার্ভের সাইজ এত ছোট যেটা সঠিক নয়।
দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ যে আর আসবে না সেটা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। তাই সবাইকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বলে জানান জাহিদ মালেক। ভারতে আবার করোনা সংক্রমণ বেড়েছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।