সকাল
থেকে তপ্ত রোদ। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। তীব্র তাপে পা ফেলা দায় কক্সবাজার সৈকতের
বালিয়াড়িতে। তবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নীল জলরাশি গরমের অস্বস্তি ভুলিয়ে দিয়েছে
পর্যটকদের।
ঈদুল
ফিতরের পরের দিন শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন
নগরী। দীর্ঘ একমাস পর স্বস্তি ফিরেছে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের মাঝে।
পর্যটন
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পুরো রমজান মাস কক্সবাজার অনেকটা পর্যটকশূন্য ছিল। দর্শনার্থীর
সেই খরা কেটেছে। ঈদের দিনেই ঢল নেমেছে ভ্রমণপিপাসুর।
দেশের
অধিকাংশ মানুষের বেড়ানোর জায়গা হিসেবে পছন্দের শীর্ষে থাকে কক্সবাজারে বিশ্বের দীর্ঘতম
সমুদ্রসৈকত। বিশেষ দিন ও টানা ছুটিতে এখানে পাহাড়-সমুদ্র, নদী ও ঝরনা দেখতে ভিড় করেন
পর্যটকরা। প্রতিবছরের মতো এবারও দীর্ঘ ছুটিতে ঈদের দিনই কক্সবাজারমুখী হয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
এর
আগে ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রমজান মাসজুড়ে হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও
রিসোর্টগুলো নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়। পর্যটন
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দিন থেকে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁর পাশাপাশি অধিকাংশ
দোকানপাটও খুলেছে।
শুক্রবার
সকাল থেকে সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণি পয়েন্টে পর্যটকরা নামতে শুরু করেন। বেলা
বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল থেকে কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ
কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতে অন্তত লাখো দর্শনার্থী নামেন বলে জানিয়েছেন সৈকতে দায়িত্বরত
কর্মীরা।
বিকালে
সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সের মানুষ সাগরের নোনাজলে গোসলে নেমেছেন। কেউ সৈকতে
ঘোড়ায় চড়ে সমুদ্র দর্শন করছেন, কেউ আবার ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে সৈকত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আবার কেউ কিটকটে (চেয়ার-ছাতা) গা এলিয়ে দিগন্ত ছোঁয়া নীল জলরাশিতে মজে আছেন। কেউ কেউ
বালুচরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের এসব আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে রাখছেন।
শহরের
বাইরেও পর্যটকরা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক
ও টেকনাফ সৈকতে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এই সড়কে সৈকত ছাড়াও আছে পাহাড়-ঝরনা, প্রাকৃতিক গুহাসহ
নানা দর্শনীয় স্থান। এ ছাড়া সাগরদ্বীপ মহেশখালী ও সোনাদিয়া, রামু বৌদ্ধ বিহার, চকরিয়ার
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের
প্রবল আগ্রহ থাকলেও নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে যেতে পারছেন না দর্শনার্থীরা।
ঢাকার
আশুলিয়ার ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন জানান, সাগরে নেমেছেন স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে
নিয়ে। কোমড় সমান পানিতে ভাসছেন টিউবে। আধা ঘণ্টা পর বালুচরে উঠে বসেন চেয়ার-ছাতা কিটকটে।
হারুন নামের আরেক পর্যটক বলেন, নোনাজলে শরীর ভেজাতে কক্সবাজারে ছুটে আসা।
সৈকতে
দায়িত্বরত বিচকর্মীর সুপার ভাইজার মাহবুবুল রহমান বলেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার
সকাল থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হয়েছেন। শুধু ঈদের দিনেই অন্তত ৪০ হাজার পর্যটক সৈকতে
নেমেছেন। শুক্রবার থেকে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারকে। হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। পর্যটকরা এবার ভিন্ন কক্সবাজারকে দেখতে পাবেন আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার
হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে
এবার ৩ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটছে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল,
গেস্টহাউসের অধিকাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে।
কক্সবাজার
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে দুই শতাধিক ট্যুরিস্ট পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলা
প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, হোটেলে কক্ষ ভাড়ার তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেওয়া
আছে। অতিরিক্ত ভাড়া যেন আদায় না হয়, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পৃথক কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ
আদালত কাজ করছেন।