মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন হতে পারে -পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মাছের উৎপাদন বাড়বে।

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব‌্যারাজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গতকাল রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব‌্যারাজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মাছের উৎপাদন বাড়বে। সেইসঙ্গে যুক্ত হবে আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন।’

পদ্মা ব্যারাজ ‘প্রজেক্ট মাস্টারমাইন্ড’ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিপ্লব ঘটবে বলে জানান শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ‌্য দিয়ে ২৪টি জেলায় অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটাবে, কৃষি বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাছের চাষ হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আরো অনেক আধুনিক প্রযুক্তি যোগ হবে। এ প্রকল্পটি ২০০৪ সাল থেকে মরহুম সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় থেকে সমীক্ষা করে এমনভাবে নিয়ে এসেছি, যা আজ ২০২৬ সালে একনেকে পাস করিয়েছি।’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারের কথা তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী আপনাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ইশতাহারে নিয়ে এসেছিলেন। আজ তার হাত ধরে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এজন‌্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং ২৪টি জেলার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন‌্যবাদ জানাই।’

এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট, দুটি ফিশপাস এবং নেভিগেশন লক-সমৃদ্ধ ব্যারাজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। আরো থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার।

আরও