জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গত ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে সারা দেশে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১৬টি মামলা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়ন, তদারকি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পচা ও বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শন না করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুটি মামলা করা হয়েছে।
একই সময়ে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড় ও সিলেট জেলায় ১২টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অনুমোদনহীন রং ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ বা বিক্রি, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় ১৩টি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া ২৬ আগস্ট পাবনার চাটমোহর ও সদর উপজেলায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মহানগর হাকিমের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, পাবনার উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত বিচার অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। নিবন্ধন ছাড়া চিজ উৎপাদন ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এ সময়ে সারা দেশে ২৬৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করা হয়েছে। বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৪ মিনিট নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিজ্ঞাপন প্রচার এবং ৪২ বার স্ক্রলবার্তা প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তিনটি পৃথক বার্তা ৩৫ মিনিট প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়েছে।