গত বছরের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর পর থেকেই এটি কাঙ্ক্ষিত হারে মানুষের কাছ থেকে সাড়া পায়নি। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭২ হাজার মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় পেনশন স্কিমকে জনপ্রিয় করে তুলতে বেশকিছু পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বীমাকে পেনশন স্কিমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এ স্কিমের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রথম সভায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থ, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পর্ষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পর্ষদের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সভায় পেনশন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত যেসব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সেগুলো পর্ষদকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টিও সভায় তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে পেনশন তহবিলের আকার কম হওয়ার কারণে শুধু সরকারি ট্রেজারি বন্ডে এর অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সামনে তহবিলের আকার আরো বাড়লে ট্র্রেজারি বন্ড ছাড়াও বিধিমালা অনুসারে অন্য কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে সে বিষয়ে পর্ষদে আলোচনা হয়েছে।
পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কমে গেছে। এটিকে গতিশীল করতে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে মেলা, রোড শো ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে পেনশন স্কিমের বিষয়ে একযোগে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্তমানে পেনশনের অর্থ জমা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ব্যাংক-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকি পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমেও যাতে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করা যায় সে বিষয়ও সভায় আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে ঐচ্ছিক ভিত্তিতে চারটি স্কিমের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনের কার্যক্রম চালু আছে। এ স্কিমের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে বেশকিছু উদ্যোগ ও পরিকল্পনার বিষয়ে পর্ষদ সভায় আলোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে পেনশন স্কিমের সঙ্গে স্বাস্থ্য বীমাকেও সংযুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি করা সম্ভব হলে মানুষ পেনশন তহবিলে চাঁদা দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমার সুবিধাও ভোগ করতে পারবে। এতে এই স্কিমের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ) রয়েছে। এটিকে রূপান্তর করে কীভাবে পেনশন স্কিমে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সামনে আলোচনা করা হবে। তাছাড়া পেনশন স্কিমের কার্যক্রম আরো সহজতর করতে পেনশন কর্তৃপক্ষ একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকালের সভায় পেনশন স্কিমের প্রথম বছরের মুনাফা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পেনশন স্কিমে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের প্রথম বছরের জন্য মুনাফা প্রদান করা হবে। তবে টাকা তারা এখনই তুলতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কবিরুল ইজদানী খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পেনশন তহবিলের অর্থ আমরা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে যে রিটার্ন পেয়েছি সেটি থেকে নিবন্ধনকারীদের মুনাফা প্রদানের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে পর্ষদ। স্কিম চালুর সময় ন্যূনতম ৮ শতাংশ হারে মুনাফা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুনাফার হার চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। তখন বোঝা যাবে মুনাফা ৮ শতাংশ নাকি তার বেশি হবে।’
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুসারে, গতকাল পর্যন্ত পেনশন স্কিমে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন নিবন্ধন করেছেন। এ সময়ে তহবিলে জমা হয়েছে ১৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ১২৪ কোটি টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪১ এবং তহবিলে জমা হয়েছিল ৯৯ কোটি ৪২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। গত ৩০ জুন পর্যন্ত পেনশন তহবিলের ৯২ কোটি টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে।