যশোরের বাজারে ৪০০ টাকার নিচে মিলছে না বিদেশী ফল

যশোরের ফলের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চায়না ও গালা আপেল ৪০০-৪৫০ টাকা, কমলালেবু আকারভেদে ৪০০-৪৫০, বেদানা ৪৫০-৫৫০, মাল্টা ৪০০-৪৫০ এবং আঙুর ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের বাজারে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে বসেছে সব ধরনের বিদেশী ফলের দাম। ছোট আকারের আপেল ছাড়া এখন বাজারে ৪০০ টাকার নিচে কোনো বিদেশী ফল মিলছে না। বড় আপেল, বেদানা, আঙুর, কমলা, মাল্টা—সব ফলই ৪০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলের বাজারের এ অস্থিরতার পেছনে উচ্চ হারের আমদানি শুল্কের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, কাস্টমস হয়রানি, ডলারের দাম, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন তারা। তবে আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটকেও বাজার অস্থিরতার জন্য দায়ী করেছেন কিছু ব্যবসায়ী।

যশোরের ফলের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চায়না ও গালা আপেল ৪০০-৪৫০ টাকা, কমলালেবু আকারভেদে ৪০০-৪৫০, বেদানা ৪৫০-৫৫০, মাল্টা ৪০০-৪৫০ এবং আঙুর ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু ছোট আকারের কাশ্মীরি আপেল ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামি বস্তা খেজুর ২৫০-৩০০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, দাবাস খেজুর ৬০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যশোর ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘পুষ্টির চাহিদা মেটানোর অন্যতম উপকরণ ফল। অথচ সরকারের ট্যাক্সের তালিকায় এটি বিলাসীপণ্য। তাই আমদানিতে বিদেশী ফলে বিভিন্ন স্তরে (আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করসহ) ১২১ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। ফলে যে ফল ২৫০ টাকায় কেনা হয়, তার জন্য সরকারকেই ৩০০ টাকা ট্যাক্স দিতে হয়।’

শহরের শংকরপুর এলাকার গৃহবধূ নাসিমা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে রোগী দেখতে যাওয়ার পথে ৪৫০ টাকা কেজি দরে আপেল আর মাল্টা কিনেছি। এ দামে বাড়িতে ফল কিনে খাওয়ার উপায় নেই। ফল হিসেবে তাই কলা, ড্রাগন আর পেয়ারা খেতে হচ্ছে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, তারা নিয়মিত ফল বাজার তদারক করছেন। মণিহার এলাকার পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন ফলের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। মূল্য তালিকা না থাকায় জরিমানাও করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ক্রয়মূল্যের রসিদ সংরক্ষণ ও বিক্রয়মূল্যের তালিকা প্রদর্শনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্রেতাদের জিম্মি করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও