এনপিএপি উদ্বোধন পরিবেশমন্ত্রীর

প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহারে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও বিনিয়োগ

অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ শুধু পরিবেশগত লক্ষ্য নয়; এটি উদ্ভাবন, নতুন বাজার সৃষ্টি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রও।

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বাংলাদেশে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের অবকাঠামো গড়ে তোলা, কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়। এ লক্ষ্যে প্লাস্টিকের উৎপাদন থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।

গতকাল জাতীয় প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (জিপিএপি) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি বাংলাদেশ)।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেস। এ সময় আরো বক্তব্য দেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের এনপিএপি বাংলাদেশ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সাঈদ মঞ্জুরুল হক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার। অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমেন্স শ্মিডের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ শুধু পরিবেশগত লক্ষ্য নয়; এটি উদ্ভাবন, নতুন বাজার সৃষ্টি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রও। প্লাস্টিকের সঙ্গে উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ সমস্যা সমাধানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বৃত্তাকার অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। জাতীয় প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ এক্ষেত্রে একটি অভিন্ন প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নীতিমালার সঙ্গে বাস্তবায়ন, উদ্ভাবকদের সঙ্গে বাজার এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়নের সংযোগ তৈরি সম্ভব হবে।’

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে এখন আলোচনার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বেশি প্রয়োজন। প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হলেও এর ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য বর্জ্য পৃথকীকরণ, দায়িত্বশীল ভোগ, টেকসই পণ্যের ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে। সরকার এককভাবে এ পরিবর্তন আনতে পারবে না; স্থানীয় সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদেম মাহমুদ ইউসুফ, কোকাকোলা বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার শাদাব আহমেদ খান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া তাবাসসুম আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) রাজিনারা বেগম, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব পরিমল সরকার এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম। প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম আসাদুজ্জামান।

আরও