শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী

শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে, দ্রুত গঠিত হবে মজুরি বোর্ড

যেসব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে

শ্রমিকদের প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ নিশ্চিত এবং দ্রুত নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৬তম সভা এবং তৈরি পোশাকশিল্পবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি-টিসিসি) ২৫তম সভা শেষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

একই সঙ্গে বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ করতে মালিকপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। শ্রমিকদের অযথা সড়ক অবরোধ না করে কারখানার ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য মালিকপক্ষের প্রতিনিধি দেয়া হয়েছে। এখন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি পাওয়া গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে। সরকার যত দ্রুত সম্ভব মজুরি বোর্ড গঠন করতে চায়।

যেসব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারখানায় কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে সেখানেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। অযথা সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়। কোনো তৃতীয় পক্ষ যাতে শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার জেরে বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকদের একত্র করে সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটছে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন শ্রমিকেরা।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করছেন। শিল্প পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মজুরি বোর্ড গঠন একটি আইনি প্রক্রিয়া। চলতি মাসের মধ্যেই বোর্ড গঠনের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং গ্যাস-জ্বালানিসংকট নিরসনেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান নাজমা আক্তার।

শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে বোর্ড গঠন করা হবে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম বলেন, গাজীপুর ও কালিয়াকৈরের আন্দোলনের সমর্থনে বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। এ পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিক। মালিক ও শ্রমিকপক্ষও এ বিষয়ে আন্তরিক থাকলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আন্দোলনের কারণে কারখানার ক্ষতি না করার পাশাপাশি সরকারকে বিব্রত না করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও