তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত সে চিত্রই তুলে ধরে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি অর্থনীতিকে নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আজ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উৎপাদন খাতের কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদন-সংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে বিভিন্ন অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চার ওপর তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওই কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চাগুলো অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কিনা এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সংকুচিত করছে কিনা তা যাচাই করা হবে। তদন্তের আওতাভুক্ত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার বলেন, ‘অন্যান্য দেশ তাদের অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনের বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার শিল্পভিত্তিকে আর বিসর্জন দেবে না। আজকের এ তদন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই অঙ্গীকারকেই পুনর্ব্যক্ত করে। যার লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং আমাদের উৎপাদন খাতের শ্রমিকদের জন্য উন্নত বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’
গ্রিয়ার আরো বলেন, ‘বিদেশী অর্থনীতিগুলোর উৎপাদন খাতের কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের পুনঃশিল্পায়ন বা রিইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন প্রচেষ্টাগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে আমাদের অনেক বাণিজ্যিক অংশীদার তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অধিক পণ্য উৎপাদন করছে। এ অতিরিক্ত উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে প্রতিস্থাপন করছে অথবা নতুন বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে কিংবা বিদেশী প্রতিযোগীদের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে পড়েছে।’
বিবৃতির সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে পাওয়া প্রমাণও উপস্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে বাংলাদেশের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদনের নিদর্শন বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় এ উদ্বৃত্তের নেতৃত্বে রয়েছে টেক্সটাইল খাতের রফতানি। বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে রফতানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা প্রদান করে।
এতে আরো বলা হয়, উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্দার মধ্যে লড়াই করছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সিমেন্টের মোট ব্যবহার (ন্যাশনাল কনজাম্পশন) ৩ কোটি ৮০ লাখ টন, যা মোট সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কমে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে তা আরো কমেছে।
জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের আইন অনুযায়ী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অফিশিয়ালি বিষয়টি আসার আগে প্রতিক্রিয়া দেয়া সম্ভব না।’