অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা ব্যারেজ এলাকার নদীতীরে মশাল প্রজ্বলন করেছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নীলফামারী ও লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান।
তিস্তা পাড়ের মানুষের দাবি, যুগের পর যুগ ধরে তিস্তার করালগ্রাসে বারবার তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হলেও তিস্তার স্থায়ী ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিগত কোনো সরকারই। তাই তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ভড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট এলাকার জহুরুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত তিস্তার ভাঙনে পাঁচবার বসতভিটা হারিয়েছি, ফসলি জমিও হারিয়েছি। বছরের পর বছর ধরে শুনে আসছি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু হচ্ছে না। তাই এবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে মশাল মিছিল নিয়ে নদীর পাড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।
কর্মসূচিতে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অধ্যক্ষ হাসিবুর রহমান হাসিব, রাজারহাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আনিছুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, প্রতি বছর তিস্তার ভাঙনে শত শত পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না তিস্তা মহাপরিকল্পনা। এজন্য তালবাহানা না করে তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।
এর আগে লালমনিরহাটের কাকিনা পয়েন্টে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় চলতি বছরের নভেম্বর মাসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার দাবি জানানো হয়।
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘নদী রক্ষায় জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করে যে তিস্তা ইস্যুটি এখন আর কেবল পরিবেশগত বা অর্থনৈতিক বিষয় নয়—এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। এই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নেমে আসার আগেই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষ খাদ্যের জন্য রাজধানীমুখী লংমার্চ করতে বাধ্য হবে।’