আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় চতুর্থ সাক্ষ্য দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা মুরমু। বুধবার (৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি সহপাঠী আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছেন। সেই গুলি করেছিলেন দুজন পুলিশ সদস্য।
ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিনা জানান, যেদিন আবু সাঈদ নিহত হন, সেদিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট দেখেছি, আবু সাঈদকে গুলি করে দুজন পুলিশ। পরে জানতে পারি, তাদের নাম আমির ও সুজন চন্দ্র।’
সাক্ষ্য গ্রহণের সময় রিনা দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রলীগ ও গুলি করা পুলিশ সদস্যরাই দায়ী। তিনি সবার বিচার চান।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রিনাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন মিজানুল ইসলাম। এ সময় ট্রাইব্যুনালে অন্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তার আগে গত ৩ আগস্ট শুরু হয় মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ। বুধবার ছিল সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয় দিন।
এর আগে, মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য উদঘাটনে সাক্ষী হতে আবেদন করেন সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
চলতি বছরের ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হতে দুটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে তাদেরকে সাত দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু তারা হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়।
গত ১ জুন এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এই মামলার পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরো দুটি মামলা রয়েছে। এর একটিতে গুম-খুনের অভিযোগ, আরেকটি রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড নিয়ে করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপরই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয়।