রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই এ খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, এ খাত নিয়ে তার গবেষণা রয়েছে এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, উন্নত দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়েছে। বাংলাদেশকেও সেই পথে এগোতে হবে। কারিগরি শিক্ষা মানে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, যা হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে সম্ভব। এ শিক্ষাই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা স্বল্প সময়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে আয় করা যায়, পরিবারকে স্বচ্ছল করা যায় ও দেশকে এগিয়ে নেয়া যায়। এ খাত থেকে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে সংযোগ বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবাইকে উচ্চ পর্যায়ে যেতে হবে এমন নয়। কারিগরি শিক্ষায় ধাপে ধাপে এগোনোর সুযোগ রয়েছে। যারা উচ্চ পর্যায়ে যেতে চায়, তাদের জন্য সে সুযোগ আগেও ছিল আর এখনো আছে।
শিক্ষকদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। সবার জন্য আবাসন দেওয়া সম্ভব না হলেও একটি নির্দিষ্ট অংশকে সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বলেন। একইসঙ্গে পরিবারের পাশাপাশি দেশের দায়িত্ব নেয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের জনসংখ্যা একটি সম্পদ। এটিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে যেন আর এমন কথা না থাকে যে মানুষ আছে কিন্তু দক্ষ জনশক্তি নেই। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এবং আগামী বাজেটেও এ খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে হবে এবং শিক্ষকদের সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে। কোনো সমস্যা উপেক্ষা করা হবে না।
বিগত সময়ে প্রশিক্ষণের নামে অর্থ অপচয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের ফলাফল থাকতে হবে এবং প্রতিটি কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, যাতে পাঠদান ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।