দেশের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘পর্যটনের সম্ভাবনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ)। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘নদী, পাহাড়, সমুদ্র, বন ও জলাভূমিসহ বাংলাদেশের রয়েছে বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, কুয়াকাটা, সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি এবং দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় কাজে লাগানো প্রয়োজন।’
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম উদ্দেশ্য বাইরের পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। আর সুন্দরবনকে নিয়ে পিপিপি মডেলে কিছু করা গেলে বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে।’
এদিকে তিনদিনের এ পর্যটন মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় রয়েছে প্রায় ৩০০টি বুথ। হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিদেশী দূতাবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পর্যটনপণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
আগামী শীত মৌসুম সামনে রেখে মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে দেয়া হচ্ছে নানা অফার। স্পট বুকিংয়ে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে মেলা থেকেই পছন্দের হোটেল বা রিসোর্টে সরাসরি বুকিং করতে পারছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।
এছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের স্টলে ৫০ টাকায় এক বছর মেয়াদি ২০ শতাংশ ছাড়ের কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। মেলা থেকে কার্ড কেনার পর পরবর্তী এক বছর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হোটেল ও মোটেলে রুম ভাড়ায় এ ছাড় নেয়া যাবে।