ভারত থেকে টমেটো আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পঞ্চগড় ও নীলফামারীর চাষী এবং ব্যবসায়ীরা। এ দাবিতে গতকাল পঞ্চগড়ে মানববন্ধন করেছেন তারা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পঞ্চগড় ও নীলফামারীর টমেটোচাষী ও ব্যবসায়ীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট গ্রামের টমেটো ব্যবসায়ী রাসেল আলী, দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ গ্রামের হাসিবুল আলম রিজু, সদর উপজেলার হাড়িভাসা গ্রামের আহমদ দুলু, চাকলাহাটের রিয়াজুল ইসলাম ও গোলাম হোসেন।
বক্তারা বলেন, মৌসুম শেষে ব্যবসায়ীরা অধিক দামে কৃষকের কাছ থেকে কাঁচা টমেটো কিনেছেন, যা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। বাজারে দামও বেশ ভালো ছিল। কিন্তু ভারত থেকে টমেটো আমদানির পর থেকে দাম কমে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা তাদের টমেটো বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষকদের কাছ থেকে বাকিতে কেনা টমেটোর দাম ও শ্রমিকদের মজুরিও দিতে পারছেন না। দুই সপ্তাহের জন্য ভারত থেকে টমেটো আনা বন্ধ হলে পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায় উৎপাদিত টমেটো বিক্রি শেষ হয়ে যাবে। এলসি বন্ধ না হলেও ব্যবসায়ী ও চাষীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সদর উপজেলার চাকলাহাটের ব্যবসায়ী রাসেল আলী বলেন, ‘মৌসুম শেষ হওয়ায় তারা কৃষকের কাছ থেকে প্রতিমণ টমেটো ১ হাজার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে কিনেছিলেন। এই টমেটো পাকিয়ে প্রতি ক্যারেট (২৫ কেজি) ১ হাজার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছিলাম। কিন্তু ভারত থেকে আমদানির পর প্রতি ক্যারেট টমেটোর দাম নেমে এসেছে ৫০০-৬০০ টাকায়। এতে আমার একারই ক্ষতি হয়েছে ২৫ লাখ টাকার মতো। চাষী ও শ্রমিকদের টাকা দিতে পারছি না। টমেটো আমদানি বন্ধ না হলে ঋণ অথবা বাড়ির জমি বিক্রি করে পাওনা পরিশোধ করতে হবে।’