বগুড়ায় নদীর পানি কমতেই সক্রিয় বালি উত্তোলনকারীরা

শীতের শেষে কমতে শুরু করেছে বগুড়ার করতোয়া ও যমুনা নদীর পানি। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বালি উত্তোলনকারীরা।

শীতের শেষে কমতে শুরু করেছে বগুড়ার করতোয়া ও যমুনা নদীর পানি। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বালি উত্তোলনকারীরা। কয়েক বছর ধরে নদীর মূল অংশ ও তীরবর্তী জমি থেকে বালি উত্তোলন করছেন ব্যবসায়ীরা। সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর অর্ধশতাধিক স্থানে খননযন্ত্র বসিয়ে বালি উত্তোলনের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শাহজালাল বাজার। এছাড়া করতোয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে বালি উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নদীতীরের বাসিন্দারা জানান, খননযন্ত্র দিয়ে জমির পলি পড়া মাটি সরিয়ে নিচ থেকে বালি তুলে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। উত্তোলনের পর বালি প্রথমে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে মজুদ করা হয়। পরে সেখান থেকে বিক্রি হয়। ট্রাক্টর ও ট্রাকের চাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক। বগুড়া মোকামতলা থেকে বনানী পর্যন্ত বেশকিছু স্থানে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। শহরের বাইরে শেরপুর ও শাজাহানপুর মিলিয়ে অর্ধশতাধিক স্থানে বালি উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শহরের ফুলবাড়ী, মাটিডালি, বারপুর, রাজাপুর, শিবগঞ্জ, মোকামতলা, বাঘোপাড়া, রাজাপুর কাচারিমোড়, শ্মশানঘাট। এছাড়া শহরের বাইরে শাজাহানপুর, শেরপুর এবং সদর উপজেলার মালতীনগর, বনানী, মানিকচক পয়েন্ট থেকে বালি উত্তোল করা হচ্ছে। অবাধে বালি উত্তোলনের ফলে নদী এলাকার আবাদি জমি ডেবে যেতে শুরু করেছে। মাঝে মাঝে সদর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ শ্যালো মেশিন এবং পাইপ আটক করলেও ভিন্ন কৌশলে চলছে এ কাজ।

শহরের উত্তরে ফুলবাড়ীর আমতলী এলাকাটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। বালি উত্তোলনের ফলে স্থানের নামই হয়েছে ছোট বালুঘাট। ঘাটের পাশেই ছিল ফুলবাড়ী বধ্যভূমি। বালি উত্তোলনের ফলে সেই বধ্যভূমি এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। করতোয়া নদী ছাড়াও ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালি উত্তোলন চলছে। সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের শাহজালাল বাজারের পাশে নতুন করে বালির পয়েন্ট চালু হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে চলছে বালি উত্তোলন।

তবে বালি উত্তোলনকারী তানভীর আহম্মেদ জানান, কৃষকের জমি টাকা দিয়ে ক্রয় করে সেখান থেকে বালি উত্তোলন করছেন। নদী থেকে বা চরের জমি থেকে বালি তিনি উত্তোলন করছেন না। এখানে আরো অনেকেই বালি বিক্রি করছেন।

বালি উত্তোলন বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সবুজ কুমার বসাক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আবারো বালি উত্তোলন শুরু হয়েছে তা আমার জানা ছিল না। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় অপকর্ম করতে পারছে। দ্রুত আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে। যমুনা, বাঙালীসহ অন্য যেকোনো নদীতে বালি উত্তোলন রোধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

আরও