দেশের জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও পরিধি থাকা প্রয়োজন, তা বর্তমান উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যথেষ্ট সীমিত।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সামরিক জাদুঘরে আয়োজিত বাংলাদেশ জ্বালানি সম্মেলনে দ্বিতীয় দিনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উপস্থাপনায় এ তথ্য উঠে আসে।
গবেষণা অনুযায়ী, বিপিডিবি একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিদপ্তর তৈরি করেছে। কিন্তু অধিদপ্তরটি আকারে ছোট ও এর প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। অধিদপ্তরটির সীমিত কাজের পরিধি বাংলাদেশের ঘোষিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগের বর্তমান গতি দেশের জাতীয় রূপান্তর লক্ষ্যমাত্রার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের তদারকিতে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতিতে অসঙ্গতি দেখা দেয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীর্ষ-স্তরে কেন্দ্রীভূত, যার ফলে মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলো নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। এছাড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে ধীর ও দুর্বল যোগাযোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটায়। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে বিপিডিবি-এর তথ্য আদান-প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক অসচ্ছলতা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পথকে সংকুচিত করছে। অতিরিক্ত জীবাশ্ম-জ্বালানি সক্ষমতা ও উচ্চ-ক্ষমতার ক্যাপাসিটি চার্জ নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগের জন্য তহবিলকে সীমিত করছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বাঁধা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। ডেডিকেটেড প্রযুক্তিগত কর্মীসহ একটি বিশেষায়িত নবায়নযোগ্য বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা, ব্যয়বহুল জীবাশ্ম-জ্বালানির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পুনরায় আলোচনা করে ও সাবসিডিয়ারিগুলোর আর্থিক সংস্থানগুলোকে সারিবদ্ধ করে নবায়নযোগ্য বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংস্থানের পথ তৈরি করা। সেইসঙ্গে পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ওভারল্যাপ কমাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্ক ফোর্স গঠন ও একটি ইউনিফাইড ডিজিটাল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। গবেষকদের মতে, এ জরুরি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা ছাড়া বিপিডিবি-এর পক্ষে দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।