দেশে ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গে একদিনে প্রাণ গেছে ১০ জনের। শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে দুই শিশু। এ সময়ে ১ হাজার ৯২৯ ডেঙ্গু রোগী এবং হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন এবং নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ঢাকায় তিনজন, ময়মনসিংহে দুজন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে একজন করে রয়েছেন। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে ৮৩১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ২৫৯, চট্টগ্রামে ২৫৭, বরিশালে ২১৩, রাজশাহীতে ১৮৫, ময়মনসিংহে ৯২, রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জন। এ সময়ে রোগটিতে মারা গেছেন ৪২৭ জন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন সিলেট বিভাগের এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৪-তে।
গত একদিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৬৪, বরিশালে ১২৯, সিলেটে ১২৬, ময়মনসিংহ ও খুলনায় ৮৯ জন করে, রংপুরে ৫১ এবং রাজশাহীতে ৪১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৩ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। এ সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩-তে। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৯৩৫ জন।