আগামী নির্বাচনে অপতথ্য ঠেকানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: সিইসি

সিইসি বলেন, বর্তমানে এটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া এ বিষয়গুলো আগের কমিশনকে ট্যাকেল করতে হয়নি।

আগামী নির্বাচনে অপতথ্য ও ভুলতথ্য ঠেকানোকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমানে এটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া এ বিষয়গুলো আগের কমিশনকে ট্যাকেল করতে হয়নি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আজ রোববার বিকালে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, এ সংলাপের মূল উদ্দেশ্য, আচরণবিধি সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোকে জানানো এবং আচরণবিধি প্রতিপালনে দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া। দলগুলো যদি সহযোগিতা করে তাহলে আচরণবিধি নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যথা হয় না। অনেকে ভাবেন, তাদের পক্ষে কাজ করলেই কমিশন তাদের লোক। আমরা কারো পক্ষে কাজ করতে পারব না।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশের (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ সংলাপ আগে হলে ভালো হত। তাহলে আরপিও সংশোধনী ও আচরণবিধির সংশোধনী নিয়ে এত আলোচনা হতো না। কমিশন সব অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নেয়নি। যেমন আমাদের কাছে থেকে আগে কোনো মতামত নেয়নি কমিশন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত তিন নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ভোট দিতে মানুষ মুখিয়ে আছে। তবে কমিশনের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ভোটের একদিন আগে থেকে ভোটের তিন দিন পর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যেতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম মেম্বার সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একইদিনে হলে গণভোটের গুরুত্ব থাকবে না। গণ্ডগোল হলে ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকবে, তখন গণভোটের কী হবে। আমরা চাই, গণভোট আলাদা দিনে হোক। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করুন ভোটের আগে, নয়তো তারা গণ্ডগোল করবে। প্রতি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হোক।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আগে হলে ভালো হত। আচরণবিধিতে জামানত বাড়ানো হয়েছে, এটা কমানো উচিত। তিনি আরো বলেন, একটা দলের একটা অংশ পালিয়েছে। তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। যারা ইলেকশনে অংশ নেবে, তাদের জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ যেন থাকে তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে।

গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আহমদ হোসেন বলেন, একটি রাষ্ট্রের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রযন্ত্রের নৈতিক ভিত্তি। এটি বৈধতার উৎস এবং গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলার প্রথম স্তম্ভ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত ব্যর্থতা হলো—আমরা স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, সুসংগঠিত প্রশাসন, শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদি গড়ার চেষ্টা করলেও প্রথম ভিত্তি, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকেই শক্তিশালী করতে পারিনি।

ধারাবাহিক এ সংলাপে আরো অংশ নেন চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির সিনিয়র সচিব।

আরও