সিরাজগঞ্জ শহরের মালশাপাড়া এলাকায় ২০১৮ সালে দেশের তৃতীয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। এর আগে ফেনীতে ৭ কোটি এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একই ধরনের আরো দুটি বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনে, বাতাসের গুণমান উন্নয়নে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে সহায়ক। তবে সিরাজগঞ্জে স্থাপিত কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের লক্ষ্য দুই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে যাবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির। বসানো হয় আটটি টারবাইন (পাখা) যুক্ত টাওয়ার। এজন্য ব্যয় ধরা হয় ৪২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) তত্ত্বাবধানে এবং প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেডের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও টাওয়ার বসানোর পর বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। ২০২৪ সালে এর কাজ আবার শুরু করা হয়। চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিদপ্তরের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে অসংখ্য নদ-নদী রয়েছে। এর তীরবর্তী এলাকায় বাতাসের প্রবাহও রয়েছে। সে প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।’
বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধা হলো একবার স্থাপন করলে ২০-২৫ বছর পর্যন্ত চালানো যায়। এর যন্ত্রপাতি দেশীয় প্রকৌশলীরাই তৈরি করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) মো. জাহাঙ্গীর আলম।