ছয় রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা
প্রত্যাহার সরকারের দায়িত্বহীনতা বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। আজ মঙ্গলবার (১৬ মে) নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এক
সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছয় রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত...
এটা আমার কাছে দুইটা জিনিস মনে হয়। একটা হচ্ছে, একটা চরম দায়িত্বহীনতা। কারণ এগুলোর
ফলে যে আন্তর্জাতিক একটা সমস্যার সৃষ্টি হবে সেই সমস্যাটা বাংলাদেশের জনগণকেই কিন্তু
এটা ভোগ করতে হবে। ফলে এই সিদ্ধান্ত দায়িত্বহীনতা ছাড়া আমি কিছুই মনে করি না।’
‘দ্বিতীয়ত
হচ্ছে যে আত্মম্ভরিতা-অহংকার কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে যেটা আপনার সবচেয়ে বড় ক্ষতি
করতে পারে।’
ফখরুল বলেন, ‘এটা তো দীর্ঘকাল ধরে তারা (রাষ্ট্রদূতরা) এই প্রটোকল পেয়ে
আসছেন। হঠাৎ করে সেই প্রটোকলকে বাতিল করে দেয়ার অর্থটাই হচ্ছে যে, সামথিং ইজ ভেরি রং
উইথ দিজ কান্ট্রিজ।’
বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতির
আশঙ্কা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি
এটাতে উদ্বিগ্ন। কুটনীতির বিষয়ে এটা আরো একঘরে করে তুলবে বাংলাদেশকে আমি মনে করি, বাংলাদেশের
ক্ষেত্রে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সমস্যাটা শুধু সরকারের না, সমস্যাটা তো
আমাদের বাংলাদেশের জনগণের। কারণ এটার যে আফটার এ্যাফেক্টস সেই আফটার এ্যাফেক্টস বাংলাদেশের
মানুষকে ভোগ করতে হবে।’
‘আজকে
ধরেন যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেয় সেটা তো বাংলাদেশের মানুষের জন্য
ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্য পাল্টা যদি ব্যবস্থা নেয় সেটা আমাদের জন্য ক্ষতির
কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
এ সময় ‘নির্বাচনকালীন সরকার’
নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখান করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘নির্বাচনকালীন সরকার হলেও বিএনপির সুযোগ নেই’ গতকাল সোমবার (১৫ মে) এমন মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনা।
ওই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি
আকর্ষণ করা হলে ফখরুল বলেন, ‘আমরা
যে যুদ্ধ করছি-সংগ্রাম করছি-লড়াই করছি, সেই লড়াইটা হচ্ছে একটা সত্যিকার অর্থেই প্রতিনিধিত্বমূলক
একটি সংসদ তৈরি করার জন্য। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে এটা হবে না… আমরা বার বার করে সেটা বলেছি। আমরা বলছি যে, একটা তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।’
আরো বলেন, ‘আমরা একটা নিরপেক্ষ সরকার চাই। সেই নিরপেক্ষ সরকার অবশ্যই
নির্দলীয়ভাবে চাই, সেখানে কোনো দলীয় ব্যাক্তিদেরকে আমরা চাই না।’
নির্বাচনকালীন যে সরকারের
কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাতে সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দলগুলোর সুযোগ আছে, বিএনপির
প্রতিনিধি নেই, সুযোগও নেই…
প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বেরিয়ে
আসাটা ভুল ছিল কি না? এ প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কখনোই না। এটা অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ এই সংসদ জাতির
আশা পুরণে ব্যর্থ হয়েছে তো বটেই্, এই সংসদে তো জাতির প্রতিনিধিত্বই ছিল না। বিকজ দে
আর নট ইলেক্টেড।’
গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে
প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমরা এইটুকু উদারতা দেখাতে পারি, পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য
যারা আছে, তাদের মধ্যে কেউ যদি ইচ্ছা পোষণ করে নির্বাচনকালীন সময়ে তারা সরকারে আসতে
চায়, সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয়
কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া্উর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দল ও অঙ্গসংগঠনের
এই যৌথসভা হয়। এই সভার সিদ্ধান্ত জানাতে পরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব।