রাষ্ট্রের অনুদানে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নেই স্বচ্ছ হিসাব কাঠামো

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বড় অংশই নির্বাহ হচ্ছে এ অনুদানের অর্থে।

অথচ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ধরনের কাঠামোগত ঘাটতি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাবমান অনুসরণ করে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী বা ‘স্থিতিপত্র’ (ব্যালান্স শিট) প্রস্তুত করছে না। ফলে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদ, দীর্ঘমেয়াদি দায়, মূলধন এবং আর্থিক পরিসম্পদের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাবমান অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করছে না। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল আয়-ব্যয়ের সাধারণ হিসাব তৈরি করছে, যার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট সম্পদ, দায়, মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা অনুপস্থিত থাকছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু হিসাব ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নয়; বরং উচ্চ শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের ওপর কার্যকর জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করছে।

এফআরসি গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানায়, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে গত বছরের ২৭ জুলাই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের সর্বশেষ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর ৭০টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়। এর মধ্যে ৪৯টি বেসরকারি এবং ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

এফআরসির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষকের মাধ্যমে নিরীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী জমা দিলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জমা দেয়া নথিগুলো ছিল মূলত আংশিক, অনিরীক্ষিত ও অসম্পূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো কেবল অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য তৈরি আয়-ব্যয়ের বিবরণী। অথচ আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী, একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যালান্স শিট, আয় বিবরণী, নগদ প্রবাহ বিবরণী এবং নোটস টু অ্যাকাউন্টস থাকা বাধ্যতামূলক। এসব অনুপস্থিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জমি, ভবন, গবেষণা অবকাঠামো, স্থায়ী সম্পদ, দায়-দেনা কিংবা ভবিষ্যৎ আর্থিক ঝুঁকির নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

এফআরসির ওই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী ব্যতীত শুধু অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার (ইন্টারনাল অডিট) মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা মোটেই সম্ভব নয়। আর্থিক সুশাসনের জন্য স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ‘এক্সটারনাল অডিট’ সম্পন্ন করা জরুরি।

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়ে থাকে। তাই আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউজিসি ও এফআরসির যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে স্থিতিপত্র তৈরি এবং পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে ‘এক্সটারনাল অডিট’ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দেশের উচ্চ শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা থেকে যাবে।

এ বিষয়ে এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রমপুঞ্জীভূত সম্পদ ও দায় পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে হলে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা দরকার। আর্থিক বিবরণী ছাড়া ক্রমপুঞ্জীভূত সম্পদ ও দায়ের তথ্য জানা সম্ভব নয়।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব নিরীক্ষার জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগের নিয়ম রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিরীক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংবিধান ২০০৬-এ বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ এবং মজুদ মালামালের হিসাব এবং রিটার্ন প্রণয়ন ও দাখিলের জন্য যে কর্মকর্তা দায়ী, তিনি সেগুলোর সম্পূর্ণতা ও শুদ্ধতা যাচাই করে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণের জন্য দায়ী থাকবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা আগে থেকেই চলে আসছে। হিসাবের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট তৈরি করার সে পর্যায়ে আমরা এখনো যাইনি। তবে এ ব্যাপারে আমাদের হিসাব পরিচালক সঠিক উত্তর দিতে পারবেন। আমরা বাইরের কাউকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট করাই না। সরকারি অফিস বাইরের লোক দিয়ে অডিট করায় না। আমাদের সাধারণ যে কর্তৃপক্ষ আছে, তারা এসে অডিট করে দেয়। এটা তো প্রাইভেট অর্গানাইজেশন না।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নির্দেশে বার্ষিক হিসাব বিবরণী ও ব্যালান্স শিট তৈরি করবে এবং কমিশনের কাছে নিরীক্ষার জন্য জমা দেবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নির্দেশে বার্ষিক হিসাব বিবরণী ও ব্যালান্স শিট তৈরি করবে এবং কমিশনের নির্ধারিত কোনো কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হিসাব নিরীক্ষা করাবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সব প্রয়োজনীয় বিবরণী জমা দিয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু-একটি অডিট আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু বিবরণী জমা না দিলে তো অডিট আপত্তির প্রশ্নই উঠত না। তাই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এসব বিবরণী অবশ্যই জমা দিতে হয়। এছাড়া এগুলো সরকারিভাবে বহিঃনিরীক্ষকের মাধ্যমে অডিট করা হয়। কিছুদিন আগেও রুয়েটের তিন-চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে কাজ করে গেছে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি কর্তৃক মনোনীত কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। তবে ইউজিসির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কমিশনে তাদের আয়-ব্যয়ের যে বিবরণী প্রদান করে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা সঠিক সময়ে প্রদান করে না। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য কমিশনকে একাধিকবার চিঠি দিতে হয়েছে।

ইউজিসি প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের বিবরণীর তথ্য রয়েছে। ওই অর্থবছরে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট অর্জিত রাজস্ব ছিল ১ হাজার ৩০৮ কোটি ৩৮ লাখ এবং সরকারি অনুদান ছিল ৪ হাজার ৯৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে মোট ব্যয় ছিল ৬ হাজার ১৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) আওতাধীন শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অডিট হয়। এছাড়া ইউজিসির অডিট ও হিসাব বিভাগও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় নিরীক্ষা করে। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমপুঞ্জীভূত অডিট আপত্তির সংখ্যা ছিল ৫০৬টি এবং এতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪২১ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে, এটি নিয়ে দ্বিমত নেই। তবে নিরীক্ষা করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সিএজির মাধ্যমে নিরীক্ষা করাতে হবে। আবার কোথাও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিএজির মাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। তাই আইনে যেভাবে বলা হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই।’

এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগে অনিয়মসহ আর্থিক খাতেও দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব অনিয়ম নিয়ে দুদক মামলাও দায়ের করেছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে তাদের হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদন উন্মুক্ত রাখে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে যথাযথভাবে হিসাব বিবরণী তৈরি ও নিরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

সাবেক অর্থ সচিব ও সিএজি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অডিট কাঠামো ঐতিহাসিক ও আইনি কারণে একরকম নয়। পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো—যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের অডিটের দায়িত্ব মূলত সিএজির ওপর ন্যস্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আইনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দিয়ে আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার বিধান যুক্ত করা হয়। ভারতের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদন সংসদের কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং সংসদ সেটি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির মাধ্যমে জবাবদিহি করে কিন্তু আমাদের এখানে এ জায়গায় দুর্বলতা রয়ে গেছে।’

বাংলাদেশে অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করছে না উল্লেখ করে সাবেক এ সিএজি আরো বলেন, ‘অনেকেই আয়-ব্যয়ের সাধারণ বিবরণী দিয়েই দায় সারে, যদিও তাদের হাজার কোটি টাকার সরকারি অনুদান ও প্রকল্প ব্যয় রয়েছে। তাছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের কাছ থেকে যে অনুদান পায়, সেটি কিন্তু জনগণের করের অর্থ। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরীক্ষার জন্য একটি একীভূত আইনি কাঠামো থাকা প্রয়োজন। যেখানে নিরীক্ষা হবে স্বচ্ছ, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের মাধ্যমে নিরীক্ষার বিষয়টি সিএজির তত্ত্বাবধানে করার বিধান রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনে নিরীক্ষার জন্য যোগ্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের তালিকা তৈরি করে দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এ নিরীক্ষা প্রতিবেদন কার কাছে যাবে, কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং সেই নিরীক্ষা কতটা স্বাধীন থাকবে সেটিও নির্ধারণ করে দিতে হবে।’

আরও