সাক্ষাৎকালে তারা উভয়ই ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন, আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকারসহ জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়ে মতবিনিময় করেন।
স্পিকার বলেন, ‘ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হচ্ছে ফ্রান্স। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল অনেক আগেই। বাংলাদেশের জনগণ সবসময় স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মাফিয়া শেখ হাসিনার সরকার এ দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছিল। এ দেশের সহস্র জনগণ গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের বারংবার আত্মোৎসর্গ করেছে।’
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত হয়েছে।’
স্পিকার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগামী অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য ফ্রান্স সরকারের সমর্থন কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত এ সময় জাতীয় সংসদের ‘স্পিকার’ পদে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে ফরাসি দূতাবাসের প্রতিনিধি দলের সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে তার সংসদ ভবনের কার্যালয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় নাগরিক প্লাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নাগরিক প্লাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও সঞ্জীব দ্রং, হাসিন জাহান, জাকির হোসেন, আশরাফুন নাহার মিষ্টি, তারান্নুম জিনান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ মানসম্পন্ন শিক্ষা, জনসেবা, সুশাসন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও সংখ্যালঘু, মানবাধিকার, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে আমি কাজ করেছি। যার ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গারো ও হাজং সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। এ সম্প্রদায়গুলোকে মূলধারার সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে তাদের দুর্দশা লাঘবের জন্যে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির সংসদে সংসদীয় ককাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জনে আগ্রহী সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে ককাস গঠনের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান সংসদের তরুণ এমপিরা উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বদা কাজ করছেন।’
নাগরিক প্লাটফর্মের প্রতিনিধি দল জানায়, প্লাটফর্মটি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেমন—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রমুখের কল্যাণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে থাকে এবং একটি স্বাধীন সংসদীয় ককাস গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।