চীনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সরাসরি যোগাযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের ইউনান প্রদেশ। এ লক্ষ্যে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন দ্রুত চালু, কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং ঢাকা–কুনমিং আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বুধবার কুনমিংয়ে ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক লি চাওওয়েইয়ের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহানাজ রানু। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
কনসাল জেনারেল গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইউনান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দশম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপোতে ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে বাংলাদেশের সফল অংশগ্রহণে সহযোগিতার জন্য ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর কুনমিংয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের স্থান চূড়ান্ত হয়েছে। এটি দ্রুত চালুর পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপন এবং চীনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন মহাপরিচালক। বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটশিল্পের প্রশংসা করে তিনি চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপোকে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহ জানান।
কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চীনে বাংলাদেশের আম রপ্তানিসংক্রান্ত প্রটোকল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পেয়ারাসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের বাজার সৃষ্টির আহ্বান জানান শাহানাজ রানু। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ে ইউনানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার আশ্বাস দেন লি চাওওয়েই।
যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকা–কুনমিং রুটে আরো এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং দুই দেশের মধ্যে সংযোগ করিডোর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনান কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
এ ছাড়া আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো এবং পরবর্তী সময়ে বিজিএমইএ আয়োজিত প্রদর্শনীতে ইউনানের আরো বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান কনসাল জেনারেল।
বৈঠকে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।