খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতি মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান ও চাল সংগ্রহ করে সরকার। যেখানে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান বা চাল কেনা হয়। গত ২০ নভেম্বর এ অভিযান শুরু হয়েছে। শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমবেশি পূরণ হলেও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০২১-২৪ সাল পর্যন্ত টানা ঘাটতিতে পড়ে খাদ্য বিভাগ। তবে চার বছর পর চলতি মৌসুমে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে দপ্তরটি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে উপজেলায় আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ২০৩ টন। তবে সংগ্রহ হয় ১৮ দশমিক ২০ টন। ২০২২ সালে লক্ষ্যমাত্রা ৭০০ টনের বিপরীতে সংগ্রহ হয় ৬ দশমিক ৬৪০ টন। ২০২৩ সালে ১৩৮ টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে সংগ্রহ হয় ৯ দশমিক ৯৪০ টন। ২০২৪ সালে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১২৫ টন। ওই বছর সংগ্রহ হয় ৯৫ টন। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৬৯ টন। তবে সংগ্রহ অভিযান শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছিল। ২০২৪ সালে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবাদ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। ওই বছর আমন আবাদ হয় ১৭ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর উপজেলায় ১৯ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, বাজার দামের চেয়ে সরকারি দাম বেশি থাকায় কৃষক খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে উদ্বৃদ্ধ হয়েছে। সরকারের বেঁধে দেয়া দাম কম থাকায় অতীতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তারা।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের কৃষক দীপক দে বলেন, ‘সরকারের কাছে ধান বিক্রি করা অনেক কঠিন। কারণ আমরা বাজারে নিয়ে গেলে পাইকার কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ধান কিনে ফেলেন। কিন্তু সরকারের কাছে বিক্রি করতে গেলে ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই অনেক কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে চান না।’
চলতি বছর সরকারিভাবে প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৬০ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১২০ টাকা। ফলে কৃষক বেশি দাম পাওয়ায় সরকারের কাছে ধান বিক্রি করছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোয় সরকারের বেঁধে দেয়া দামে ধান বিক্রি করলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। কারণ উৎপাদন খরচের চেয়ে সরকারের বেঁধে দেয়া দাম অনেক কম ছিল। এছাড়া সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তুলনায় বাজার দাম বেশি থাকায় কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মানিক লাল চাকমা বলেন, ‘চলতি বছর বাজার দামের তুলনায় সরকারের বেঁধে দেয়া দাম বেশি। এজন্য কৃষক আমাদের কাছে ধান বিক্রি করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। লক্ষ্যমাত্রা পূরণও হয়েছে খুব সহজে।’