নৌকাবাইচ

নদীতে নাব্য সংকটে থেমেছে নৌকাবাইচ

শংকরপুর হরকান্তের ডাঙ্গা মৎস্যজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শেখটারি ও গুদামপাড়া জেলে পরিবারের সদস্যরা মূলত যমুনেশ্বরী নদীতে মাছ ধরা, নৌকায় মানুষ পারাপার ও নৌকাবাইচে অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

একসময় রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরে যমুনেশ্বরীর তীর উৎসবে মেতে উঠত। দুপুর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত নৌকাবাইচ। নদীর দুই কিনারে গিজ গিজ করত মানুষ, পা ফেলার জায়গা থাকত না! কিন্তু নাব্যতা সংকট, নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় ও অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে যৌবনহারা যমুনেশ্বরীতে আর হয় না নৌকাবাইচ। অনেকে নদী ও নৌকাকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা অনেকে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন।

শংকরপুর হরকান্তের ডাঙ্গা মৎস্যজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শেখটারি ও গুদামপাড়া জেলে পরিবারের সদস্যরা মূলত যমুনেশ্বরী নদীতে মাছ ধরা, নৌকায় মানুষ পারাপার ও নৌকাবাইচে অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু নদীতে চর জেগে ওঠা, নাব্যতা কমে যাওয়া ও বালি উত্তোলনে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলে পরিবারের সংখ্যা দুই শতাধিকের নিচে নেমে এসেছে। কমেছে নৌকার সংখ্যাও। অনেকে মাছ ধরার পাশাপাশি অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

বিমল দাস ও গুরুদাস জানান, প্রায় ছয় বছর ধরে মাছ ধরা ছেড়ে তারা অটোরিকশা ও সিএনজি চালাচ্ছেন। নদীতে মাছ ও খেয়া পারাপার কমে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে তাদের পেশা পরিবর্তন করতে হয়েছে।

শংকরপুর হরকান্তের ডাঙ্গা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সীমন্ত দাস বলেন, ‘‌মূলত জেলে পরিবারের সদস্যরা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বর্তমানে নদীগুলোর নাব্যতা কমেছে, দূষিত হয়ে পড়ছে, আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া খেয়াপারের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন নদী ভরাট হয়ে চর জেগে উঠছে। তেমন পানি নেই নদীতে। অনেক জেলে পেশা ছেড়ে দেয়ায় আগের মতো নৌকাও নেই। এ কারণে প্রায় ১০ বছর ধরে নৌকাবাইচ হয় না।›

যমুনেশ্বরী পাড়ের বাসিন্দা, লেখক, গবেষক ও শিক্ষক ছাইদুল হক বলেন, ‘‌নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম বিনোদন নৌকাবাইচ। একসময় এ প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্তের মানুষ নদীর পাড়ে ভিড় করতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে যমুনেশ্বরী নদীর বদরগঞ্জ অংশে নৌকাবাইচের আয়োজন তার মনে পড়ে না।’ সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে নদীতে আবার নৌকাবাইচ চালুর আহ্বান জানান তিনি।

আরও