কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ

এছাড়া গাজীপুর, মিরপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোয় সকাল থেকেই শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা ছয়দিন ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। কাজে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এর মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলগুলোয় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এর মধ্যেও ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কায় আশুলিয়ার শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া গাজীপুর, মিরপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোয় সকাল থেকেই শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা গতকাল সকালে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা গণপরিবহনে করে দলবেঁধে কর্মস্থলে প্রবেশ করছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন সতর্ক অবস্থানে। মহাসড়কে যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।

মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস, সাইনবোর্ড, নাওজোর, চন্দ্রা, কোনাবাড়ী ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়ও ছিল স্বাভাবিক পরিস্থিতি। টানা ছয়দিন ধরে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে এসব পয়েন্টে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও গতকাল কোনো ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছেছে মানুষ।

এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) গাজী জসিম বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সার্বিকভাবে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি।

পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে বুধবার জানিয়েছে এ খাতের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড। আর সে ঘোষণাই শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও