রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ, ঢাকা থেকে বাতিল ১২৬ ফ্লাইট

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এ রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে সাময়িকভাবে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহারের ব্যবস্থাও নিয়েছিল সংস্থাটি।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ও সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার করে পরিচালিত ১২৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। তবে সৌদি আরবে যাতায়াতের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশটির জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী পরিবহন চালু রয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে দাম্মাম বিমানবন্দরেও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও জেদ্দা ও মদিনা রুটে তাদের ফ্লাইট চলাচল করছে। জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুক যাত্রীরা এ দুটি বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থাও নিচ্ছে সংস্থাটি।

জেদ্দা শহরে অবস্থিত কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর। লোহিত সাগরের তীরবর্তী এ শহরটি হজ ও ওমরাহযাত্রীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। অন্যদিকে, মদিনা শহরে অবস্থিত প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েও সৌদি আরবে যাতায়াত করা যাচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এ রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে সাময়িকভাবে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহারের ব্যবস্থাও নিয়েছিল সংস্থাটি।

এদিকে, দাম্মাম শহরে অবস্থিত কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রেখেছে সংস্থাটি। রিয়াদ বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের যাত্রীদের ফ্লাইটের তারিখ, টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ এবং বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে আগেই খোঁজ নিতে হবে।

আরও