ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
গতকাল মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে উপদেষ্টা একথা বলেন। তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, জনপ্রশাসনে বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। আমরা অতীতের বিভাজন ও দলীয় বিবেচনাগুলো পেছনে ফেলে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে পদ থেকে বঞ্চিত বা বৈষম্য করা হবে না, আবার ধর্মীয় কারণে কাউকে কোন প্রাধান্যও দেয়া হবে না।
তিনি আর বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের উপাসনালয়ে কর্মরত পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ্য ও ধর্মযাজকদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেয়া হচ্ছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে সব মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর জিউ আখড়া, শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ি, রক্ষাকালী বাড়ি পূজামন্ডপ, মনষা বাড়ি দুর্গা পূজামন্ডপ, বিজয় স্বরণী ত্রিনয়ণী পূজামন্ডপ, কুন্ডবাড়ি শ্রী শ্রী ঠাকুর রাম চন্দ্র দেবের সেবা মন্দির পূজামন্ডপ ভবানীগঞ্জ পরিদর্শন করেন। এছাড়াও রামগতি উপজেলার শ্রী শ্রী রামঠাকুরাঙ্গন সার্বজনীন দূর্গাপূজা মন্ডপ ও শ্রী শ্রী বুড়াকর্তা আশ্রম সার্বজনীন দূর্গাপূজা মন্ডপ এবং কমলনগর উপজেলার শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির ও শ্রী শ্রী হরিনারায়ণ সেবাশ্রম পরিদর্শন করেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমালোচনা হবে, মতবিরোধ হবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দিনের শেষে আমাদের মনে রাখতে হবে— দেশটা আমাদের, এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড আমাদের। আমাদের দলের বর্তমান ভিশন এবং রাজনীতির মূল দর্শনই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
পরবর্তীতে রামগতি উপজেলার চর সীতা মৌজায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন করেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা প্রকল্পের প্রস্তাবিত জমি, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সার্বিক অবকাঠামোগত সম্ভাব্যতা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় যুবসমাজকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করার লক্ষ্যে টিটিসি প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রেখে যেন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কমলনগর উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল সামগ্রী বিতরণকালে উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারে ঘোষিত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন সহজেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা যাবে।
এ সময় উপদেষ্টা লক্ষ্মীপুর জেলা সার্কিট হাউজ এবং কমলনগর ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপন করেন।
পুজামন্ডপ পরিদর্শনকালে ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লক্ষীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট হাসিবুর রহমান।