খুলনায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে নগরের খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে পাঁচ যুবক এ হামলা চালায়। এ সময় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ভাঙচুরের পাশাপাশি এক কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে পাঁচ যুবক ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে প্রবেশ করে। তারা দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), একটি টেলিভিশন, সামনের দরজার কাচ ও অভ্যর্থনাকক্ষের কাউন্টারসহ বিভিন্ন জিনিস ভাঙচুর করে। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। ভাঙচুর শেষে হামলাকারীরা নিজেরাই সেখান থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য পরিচয়ে একজন তাকে ফোন করেন। তিনি ওই নামে কাউকে চেনেন না জানালে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। তবে মালিকপক্ষের কারো কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে কিনা, তা তাঁর জানা নেই।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরের পিটিআই মোড়কেন্দ্রিক বিভিন্ন ভাঙচুরের ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিম ও তার বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। চাঁদা না পেয়ে কিংবা ভয় দেখাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
নগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত মাসের মাঝামাঝি রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালানো হয়। ২৪ অক্টোবর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে মুখোশধারীদের হামলায় চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার, টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করা হয়। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলিও ছোড়ে তারা।
এর চারদিন পর ২৮ অক্টোবর আহসান আহমেদ সড়কের চাইনিজ প্যালেস রেস্তোরাঁয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মালিককে না পেয়ে এবং কর্তৃপক্ষ তাদের ‘ভাইয়ের’ ফোন না ধরায় ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন যুবক এ হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরে অন্তত নয়টি বাহিনী বিভিন্ন নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে জড়িত বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে নূর আজিমের নেতৃত্বাধীন বাহিনীও রয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেননি। তবে সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনায় গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য ঘটনাগুলোতে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।