দর্শনার্থী পরিচয়ে বহিরাগতদের ঠেকাতে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে পাস কার্ড চালু হয়েছে। গত বুধবার থেকে এ ব্যবস্থা চালু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য এ পাস কার্ড চালু হবে। এ ব্যবস্থা চালুর সুবাদে হাসপাতালে বহিরাগত ও অযাচিত দর্শনার্থীর ভিড় কমবে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে গত বুধবার থেকে দর্শনার্থী কার্ড চালু করা হয়েছে। মাগুরায় একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা রয়েছে। এ ব্যবস্থার সুবিধা ও সমস্যার বিশ্লেষণ করে আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানকিভাবে তা চালু হবে। সুফল পেলে পুরো দেশেই এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার আবু তাহের পাটোয়ারী জানান, রোগী ভর্তি হওয়ার সময় সঙ্গে একজন দর্শনার্থী ১০০ টাকা জামানতের বিনিময়ে কার্ডটি পেয়ে থাকবেন। পরে হাসপাতাল ত্যাগের সময় কার্ড ফেরত দিয়ে তিনি তার জমাকৃত টাকা ফেরত নিয়ে যাবেন। এটি চালুর ফলে হাসপাতালে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল এবং ফার্মেসি কর্মচারীদের প্রবেশও ঠেকানো যাবে। এতে করে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজে মনোযোগী হবেন এবং সেবার মান বাড়বে।
তিনি আরো জানান, পাস ছাড়াও যেকোনো দর্শনার্থী শীতকালে বিকাল ৩টা থেকে বিকাল ৫টা ও গ্রীষ্মকালে বেলা ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী দেখার সুযোগ পাবেন। হাসপাতালে কর্মরত সব স্টাফ আলাদা বিশেষ পাস ব্যবহার করবেন। এছাড়া হাসপাতালের রোগীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাবলি সাঁটানো হয়েছে। প্রতিটি সিটের পাশে কেবিন ও সিট ভাড়ার তালিকাও দেয়া হয়েছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী পাস কার্ড চেক করে প্রতিটি রোগীর বিপরীতে একজন করে দর্শনার্থী ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছেন। এ কার্ড চালুর পর থেকে হাসপাতালে ভিড়ও কমে এসেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের বছরের প্রথম সপ্তাহে যে কোনোদিন এ পাস কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি।