ইউনিকোর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করার অঙ্গীকার

‘সেবার এক বছর, আস্থার এক নতুন অধ্যায়’ এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে ইউনিকো হাসপাতাল। সোমবার (১০ আগস্ট) এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাজুল ইসলাম ঢালি এবং সিইও আর্দ্রা কুরিয়েন বক্তব্য দেন। তারা হাসপাতালের এক বছরের পথচলা, চিকিৎসাসেবার পরিধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রথম দিকের রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়।

হাসপাতালটির চিফ অব মেডিকেল সার্ভিসেস (সিএমএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. শরীফ আহমেদ বলেন, যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে এক বছর পূর্ণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং আস্থার কারণেই এ পর্যায়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে মানুষের জীবন পরিবর্তন’ এ ভিশন নিয়েই ইউনিকো হাসপাতালের যাত্রা শুরু। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সার্ভিসের পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, গাইনি ও পেডিয়াট্রিক বিভাগ, ডায়াগনস্টিক সার্ভিস, ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজি সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া ক্যাথল্যাব, সিসিইউ, আইসিইউ, এমআইসিইউ, ব্লাড ব্যাংক, ফার্মেসি ও ডায়ালাইসিস সেবাও দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের একজন রোগী মেহজাবিন শাহিদী তার গর্ভকালীন চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হাসপাতালটি নতুন হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও চিকিৎসাসেবা ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় তার আস্থা তৈরি হয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকদের সহযোগিতা এবং প্রসবের সময় পাওয়া সেবার প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের সিইও আর্দ্রা কুরিয়েন বলেন, যাত্রার শুরুতে ইউনিকো হাসপাতালকে কেউ চিনতেন না। তখন কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসতেন। তাদের অনেকেই চিকিৎসকদের পরিচিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্য রোগীদের মুখে শুনে হাসপাতালে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম আমাদের রোগীরা প্রথমে আমাদের সেবার সরাসরি অভিজ্ঞতা নিন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই হাসপাতালের পরিচিতি তৈরি হোক।

ইউনিকো হাসপাতালকে মাল্টি-স্পেশালিটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচলিত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নতুন ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা দেশে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে অ্যান্টেনাটাল প্রোগ্রাম, বার্থিং স্যুট, নিওনেটাল সেবা এবং ব্যথাহীন প্রসব বিষয়ে রোগীদের প্রস্তুত করার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে একজন নারী কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান, সে বিষয়ে মাসভিত্তিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদেরও প্রসবকালীন সময়ে কীভাবে সহযোগিতা করতে হবে, সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

আর্দ্রা কুরিয়েন বলেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য কেন বিদেশে যেতে হবে? একটি দেশ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেশের মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো শক্তিশালী হয়।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে জেনেটিক অ্যানালাইসিসের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ করে ক্যানসার রোগীদের জন্য কোন ধরনের কেমোথেরাপি বা হরমোন থেরাপি বেশি কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে বসেই ডিএনএ এক্সট্রাকশন ও জেনেটিক অ্যানালাইসিসের সুযোগ তৈরিতে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গণমাধ্যমের আরো সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়। আর্জা কুরিয়েন বলেন, শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ছাড়া একটি সুস্থ জাতি ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকারের জায়গায় নিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের প্রথম রোগীকেও বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রার শুরুর দিকে যখন প্রতিষ্ঠানটির আইপিডি কার্যক্রমও পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না, তখনও রোগীরা আস্থা রেখে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছিলেন। তাদের সেই আস্থাকেই হাসপাতালের এক বছরের পথচলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিকো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ক্লিনিক্যাল উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং রোগী ও কমিউনিটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আরও