গাজীপুরে পরিবহন নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

গাজীপুরে এক পরিবহন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুরে এক পরিবহন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকালে গাজীপুর মহানগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্ত পরিবহন নেতার নাম সুলতান আহমেদ সরকার, যিনি গাজীপুর পরিবহন মালিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি। তবে নিজের বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সুলতান আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগরী কাশিমপুর এলাকার গৃহবধূ নুরুন্নাহার সাথী। এসময় সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এমন সাত সিএনজি মালিক চালকও উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নুরুন্নাহার সাথী বলেন, সুলতান সরকারের বাবা শামসুদ্দিন সরকারও ছিলেন পরিবহন নেতা। তার মৃত্যুর পরই ২০১৩ সালে সুলতান গাজীপুর জেলা পরিবহন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। তারপর থেকে তিনি গাজীপুরের পরিবহন সেক্টরের একচ্ছত্র প্রভাবশালী নেতা হিসেবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।

গজারিয়াপাড়ার সিএনজিচালক জামাল উদ্দিন, রাজেন্দ্রপুরের পারভেজ রুদ্রপুরের গোলাপ মিয়া অভিযোগ করেন, লাইনম্যান, সিরিয়াল মাস্টার, অফিস সহকারী বিভিন্ন পরিচয়ে সুলতান সরকারের লোকজন বাস, ট্রাক, সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো থেকে দৈনিক বা মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে। মহানগরীর চন্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, রাজেন্দ্রপুর, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার, মাস্টারবাড়ী, মিরের বাজার, বোর্ডবাজার এলাকা থেকে ওই পরিবহন নেতা প্রতিদিন - লাখ টাকার চাঁদাবাজি করেন।

সিএনজিচালক জুয়েল চন্দ্র সাহা, সুমন মিয়া, আক্কাছ আলী অভিযোগ করেন, কাশেমপুর এলাকায় একর ৮০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন সুলতান সরকার তার সহযোগী ইমতিয়াজ করিম শুভ। জমি মালিকদের বিরুদ্ধে পর্যন্ত প্রায় ৩০টির মতো মামলাও করেছেন। ফলে এসব মিথ্যা মামলায় তারা পাঁচ-ছয় বছর ধরে পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি কাজকর্ম করতে না পেরে মানবতার জীবনযাপন করছেন। এসব বিষয়ে ন্যায়বিচার চেয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।

জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা সুলতান উদ্দিন সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই। সবই মিথ্যা, ভিত্তিহীন বানোয়াট। প্রয়োজনে আপনারা তদন্ত করুন।

আরও