এবারের নির্বাচন জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘এ শেষ সুযোগ। জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এখন আমার জীবনে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। ভোটের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমার ও পুরো কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য। সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ধারাবাহিক সংলাপে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় ২৫ লাখ নতুন ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ২১ লাখ মৃত ও ভুয়া ভোটারকে বাদ দেয়া হয়েছে।’ এছাড়া পুরুষের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ নারী ভোটারের ঘাটতি ছিল, সেটি কিছুটা কমানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে সুশীল সমাজের বিজ্ঞজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছি। তবে এবার আমরা এমন পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলছি, যাদের সরাসরি মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যারা ফিল্ডে নির্বাচন কমিশনের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং তারাই বোঝেন বাস্তব পরিস্থিতি কীভাবে পরিচালনা করতে হয়। তারা জানেন কোথায় কোথায় গ্যাপ বা দুর্বলতা থাকে, কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে এবং কোথায় কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বাস্তব ও মূল্যবান মতামত দিতে পারবেন, যা একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। আরো উপস্থিত ছিলেন— ইসির সাবেক সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব খন্দকার মিজানুর রহমান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব মো. নূরুজ্জামান তালুকদার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক উপসচিব মিহির সরওয়ার মোর্শেদ, সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা) শাহ আলম, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী, সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক উপসচিব মিছবাহ উদ্দিন, সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মীর মো. শাহজাহান।
এর আগে গতকাল দুই দফায় ৪৪ জন গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপে বসে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেখানে সিইসি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারা আন্তরিক প্রচেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না। এজন্য তিনি গণমাধ্যমকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।