নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগের জের ধরে গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামের বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
নিহতরা হলেন গোয়ালনগর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিবুল্লাহ (৪০) ও আক্তার মিয়া (৫০)। হাবিবুর গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। আক্তার গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে শ্রমিকের কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি এমএ হান্নানের পক্ষে গোয়ালনগর ইউনিয়নে কাজ করেন বিএনপির সমর্থক রহিম তালুকদারের লোকজন। অন্যদিকে একই ইউনিয়নে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি কেএম কামরুজ্জামানের পক্ষে কাজ করেন স্থানীয় কাশেম মিয়ার লোকজন। রহিম ও কাশেমের মধ্যে নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ভোটের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার প্ররোচনার অভিযোগে রহিম তালুকদার পক্ষের সমর্থক জিয়া মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেন। জিয়ার সন্দেহ ছিল, কাশেম মিয়ার পক্ষের শিশু মিয়া সেনাবাহিনীকে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সহযোগিতা করেছেন।
এদিকে, জিয়াউর রহমান কারাগার থেকে বের হয়ে শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপর ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে গতকাল সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামে একজন নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও কেউ সাড়া দেননি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ হান্নানের মুঠোফোনে কল করলেও তিনি ধরেননি। অন্যদিকে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কেএম কামরুজ্জামানের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুজন মারা গেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।