ভারত থেকে সুতা আমদানি কমাতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে আমদানিতে আর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ বা শুল্ক আরোপ হলে বাংলাদেশের নিট পোশাক শিল্পে মারাত্মক উৎপাদন সংকট, ব্যয় বৃদ্ধির চাপ এবং কর্মসংস্থানে সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। বন্ড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এরই মধ্যে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া এক চিঠিতে বিজিএমই বলছে, প্রস্তাবিত যেকোনো ধরনের সুতা আমদানি সীমাবদ্ধতা কেবল বাজারমূল্যের বিষয় নয়, বরং এটি পুরো রফতানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কাঠামোগত উৎপাদন বাধা তৈরি করবে।
বিজিএমইএ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ভারত থেকে সুতা আমদানিকে দেশীয় স্পিনারদের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বাস্তবে নিট রফতানি খাতের কাঠামোগত প্রয়োজন থেকেই সুতা আমদানি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। নিট পোশাক উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও ফাইবার, সার্টিফায়েড ও ট্রেসেবল কাঁচামাল, কম্বড ও কম্প্যাক্ট সুতা, দ্রুত লিডটাইম এবং ক্রেতাভিত্তিক কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণের জন্য আমদানীকৃত সুতার বিকল্প নেই। ফলে সুতা আমদানি দেশীয় স্পিনিংয়ের বিকল্প নয়, বরং রফতানি উৎপাদন সচল রাখার জন্য ভারসাম্য রক্ষাকারী উপাদান।
সুতা আমদানি পুরোপুরি বা কঠোরভাবে সীমিত করা হলে নিট রফতানি খাতে ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুতা সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছে বিজিএমই। সংগঠনটি বলছে, এ ঘাটতি স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রশাসনিক বণ্টন, দাম সমন্বয় বা জরুরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। এর ফলে নিশ্চিত রফতানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, উৎপাদন হ্রাস, নিটিং, ডাইং ও ফিনিশিং ইউনিট বন্ধ থাকা, ক্রেতা বাতিল, নগদপ্রবাহ সংকট এবং দ্রুত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়বে প্রায় ২৫-৩০ লাখ মানুষ।
বিজিএমইএ বলছে, সুতার দামে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, আর ২০ শতাংশ বাড়লে ব্যয় বাড়বে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এ বাড়তি ব্যয় পোশাক খাতের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
পোশাক রফতানির বৈশ্বিক বাজারকে অত্যন্ত মূল্যসংবেদনশীল দাবি করে বিজিএমই বলছে, মাত্র ১-২ শতাংশ এফওবি মূল্যের পার্থক্য হলেই ক্রেতারা ক্রয়াদেশ অন্যত্র সরিয়ে নেয়। ফলে এমন ব্যয় বৃদ্ধি দ্রুত অর্ডার হারানো ও দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতা সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। এতে দেশীয় নিটিং মিল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সক্ষমতা ব্যবহার কমবে, একক উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, এসএমই কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দুর্বল হয়ে পড়বে।