ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। ১ হাজার ৪০০ শহীদের ওপর দাঁড়িয়ে হওয়া নির্বাচন এটি। এ নির্বাচন আয়নাঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের নির্বাচন। শহীদ পরিবারগুলোর হাহাকার অবসানের নির্বাচন। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন।’
জামালপুর শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু জায়গায় মায়েরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে গেলে অপমান করছে দুর্বৃত্তরা। এসব দুর্বৃত্তকে প্রতিহত করতে হবে।’
ক্ষমতায় গেলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন জানিয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবকরা ভাতা চায় না, কাজ চায়। বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের অপমানিত করব না, তাদের হাতে কাজ তুলে দেব। যে যুবকদের হাতে কাজের নিশ্চয়তা দেব, তাদের হাতেই বাংলাদেশ তুলে দেব।’
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গৃহ, কর্ম এবং চলাচলে নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। নারীদের হাতে কাজ তুলে দেয়া হবে। সব কাজের অংশীদার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। যার যে হক আছে, তা বুঝিয়ে দেয়া হবে।’
সংখ্যালঘুদের নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগান। সব জাতের ফুল দিয়ে বাংলাদেশ নামক বাগান সাজাব। ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা হবে না। শুধু দেখা হবে দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি নিবেদন।’
কিছু দল লুকিয়ে লুকিয়ে হ্যাঁ ভোটের কথা বলছে মন্তব্য করে এ বিষয়ে তাদের প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। “হ্যাঁ”-তে আজাদি, “না”-তে গোলামি। যারা জাতিকে গোলামির জিঞ্জির পরাতে চায়, তারা “না” চায়। কিছু দল “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে স্বস্তির সঙ্গে কিছু বলতে চান না। আস্তে আস্তে লুকিয়ে বলেন। আপনারা “না” চাইলে প্রকাশ্যে বলে দেন।’
জামায়াত নিজেদের ক্ষমতা চায় না, জনগণের ক্ষমতা চায় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৮ কোটি জনগণের বিজয় হলেই জামায়াতের বিজয়। ক্ষমতা দায়িত্বের বোঝা। জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে প্রতি বছর জনগণের সামনে তাদের সম্পদের হিসাব তুলে ধরতে বাধ্য থাকবে। কথা দিচ্ছি—আপনাদের টাকা আপনাদের কাজে লাগবে। আপনাদের দাবি আপনাদের চোখের সামনে বাস্তবায়ন হবে।’
জামালপুর জেলার নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে আনেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয় আল্লাহর পরীক্ষা, কিন্তু এটা অবহেলা করা জঘন্য অপরাধ। এর মূল কাজ সরকারের। বিগত স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ঘুরেছেন। পানিতে দূরের কথা, মাটিতেই পা পড়েনি। জনগণের প্রতি যাদের দায়বদ্ধতা নেই, তারা কেন এগিয়ে আসবে? প্রতিটি বিপদে কিন্তু আমাদের উপস্থিতি ছিল।’
এর আগে শেরপুরে ইশতাহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন শফিকুর রহমান। পরে শেরপুরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
নিজের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ হ্যান্ডল হ্যাক করা হয় দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘হ্যাক হওয়া পোস্টে কোনো মা-বোন কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তারা আমার ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডল হ্যাক করেছিল। পরে সেখান থেকে মায়েদের নিয়ে নোংরা মন্তব্য ছড়াচ্ছিল। একটা দল দেখলাম হৈ হৈ রৈ রৈ করে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারাই মিছিল শুরু করল।’
নারীদের বিভিন্ন জায়গায় অসম্মান করা হচ্ছে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘নিজের পরিবারকে সম্মান করতে জানলে নয় কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন। যারা নারীদের অসম্মান করে তারা অমানুষ। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে। নারীদের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।’