সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

​মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে, তবে চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন এনে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলের

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। সাধারণ রোগীরা যাতে বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়েই মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য কাউকে যাতে রাজধানীতে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আজ বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং-এর '৩২তম জাতীয় সম্মেলন ও ২য় আউট রিচ প্রোগ্রাম বাংলাদেশ' এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান করেছেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে এ বাজেটের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে স্বাস্থ্য সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে, তবে চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন এনে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলের। রোগীরা যাতে দেশেই সব ধরনের জটিল ও আধুনিক রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কাউকে বিদেশে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

একইসঙ্গে তিনি নতুন চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যানিং তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে লিভার সিরোসিস সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং সাড়ে চার কোটির বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। রোগটি জটিল রূপ নিলে এক বছরের মধ্যে শতকরা ৪০ থেকে ৬০ ভাগ রোগী মৃত্যুবরণ করেন, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা ও সচেতনতা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান ও সার্জারি না করা এবং অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রেডিয়েশন ঝুঁকি ভাতা চালুর আহ্বান জানান বক্তারা।

​সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম (শাকিল)।

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি. জে. সৈয়দ আওসাফ আলী (অব:), শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম।

​সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও