বিজয়ীদের গেজেট আজ, শপথ হতে পারে সোমবার

শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারিভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারিভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পরের ধাপ হিসেবে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের ফলাফল নিয়ে আজ গেজেট প্রকাশ করবে এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আর সোমবার বিজয়ীদের শপথ পড়ানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার গেজেট প্রকাশ হবে। সারা দেশের রিটার্নিং অফিসগুলো থেকে এরই মধ্যে বিস্তারিত ফলাফল ইসিতে এসে পৌঁছেছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত আসনভিত্তিক ফলাফলের মূল প্রামাণ্য দলিল এখনো ইসিতে আসেনি বলে জানা গেছে। এসব দলিলের হার্ড কপি সরাসরি বহন করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের বিশেষ দূতের মাধ্যমে কমিশনে আসার কথা রয়েছে। এ ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) কমিশনের পাঁচ সদস্যের স্বাক্ষর শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজি প্রেসে পাঠানো হবে গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে গতকাল বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হার্ড কপি হাতে আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইনে পাওয়া তথ্যগুলো আমরা কেবল কম্পাইল করছি। নামের বানানসহ প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। এমনকি কিছু আসনে ভোটারের চেয়ে কাস্টিং ভোট বেশি হওয়ার তথ্যও যাচাই করা হবে।’

ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘অসংগতিপূর্ণ তথ্যগুলো মূলত যোগের ভুলের কারণে হতে পারে। এবার কোনো কিছুই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ নির্বাচন কমিশন এবং সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি তথ্য যাচাই করতে সময় লাগছে। সব ঠিক থাকলে এটি শনিবার দুপুর ১২টা বা ১টার দিকে গেজেট হতে পারে। যদি রাতের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায় তবে সকালেও হতে পারে।’

ইসির কাছে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল থাকার পরও কেন এ বিলম্ব এ সম্পর্কে ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র বণিক বার্তাকে জানিয়েছে, গেজেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। কোনোভাবে কারো নামের বানান, এমনকি একটি দাঁড়ি-কমাও ভুল হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।৷ সে কারণেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, যাতে ভুলের কোনো অবকাশ না থাকে। আর রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত ফলাফলের হার্ড কপি এক্ষেত্রে মূল দলিল হিসেবে কাজ করে। গেজেটে বিজয়ী প্রার্থীদের সম্পর্কে কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে তারা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করারও এখতিয়ার রাখেন।

শপথ গ্রহণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব মূলত গেজেট চূড়ান্ত করা পর্যন্ত। গেজেট হওয়ার পর সব দায়িত্ব সংসদ সচিবালয়ের কাছে চলে যায়।

এ বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইসির এ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, গেজেট প্রকাশের পর সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বে চলে যায়। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথ করাতে হয়। ‘স্পিকার না থাকলে রাষ্ট্রপতি যদি কাউকে অ্যাসাইন না করেন, তবে সাধারণত প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতি বা ক্যাবিনেট কাউকেও দায়িত্ব দিতে পারেন, তবে আলাদা করে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়ার যৌক্তিকতা না থাকলে সিইসিই তা করবেন।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘গেজেট হওয়ার পর সব দায়িত্ব সংসদ সচিবালয়ের কাছে চলে যায়। তিনদিনের মধ্যে শপথ না হলে স্পিকারের কাছ থেকে সময় নিতে হয়। এবার স্পিকার না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।’

সরকার কবে নাগাদ নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরবর্তী সময়ে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বণিক বার্তাকে জানান, ‘আমাদের এখানে বেশকিছু লেজিসলেটিভ স্টেপ আছে। ওই স্টেপগুলো কমপ্লিট করার পর এবং দুই-তিন জায়গা থেকে আমার লিখিত সিদ্ধান্ত আনতে হবে, তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

কবে নাগাদ শপথ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা বলতে পারব না। কেননা ওটা আমার ওপর নির্ভর করছে না, বিভিন্ন অফিসের ওপর নির্ভর করছে। সেসব অফিস কবে করবে সেটা আমি বলতে পারব না। লিখিত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর আমরা আমাদের প্রসেসটা শুরু করব।’

সাংবিধানিকভাবে যে তিনদিনের একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেইনটেইন করার আগে কিছু পূর্বশর্ত আছে। পূর্বশর্তটা পূরণ না হলে তো আমি আলাদা করে কিছু করতে পারব না।’

আরও