জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অর্থনীতি ও অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃক্ষাচ্ছাদন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার স্থানীয় জলবায়ুর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চীনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা থেকেও আমাদের শেখার সুযোগ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সাফল্য শুধু বৃক্ষরোপণের সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করলে চলবে না; গাছের টিকে থাকা, নিয়মিত পরিচর্যা ও বৃদ্ধিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ট্রি মনিটরিং অ্যাপের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ ও গাছের বৃদ্ধির তথ্য সংরক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে ডেঙ্গু মোকাবেলায় জলবায়ুগত বিষয়গুলোর পাশাপাশি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।