হাম উপসর্গে ও ডেঙ্গুতে সাত জনের প্রাণহানি

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ দুজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা গেছে।

দেশে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দুজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে এক শিশু ও উপসর্গ নিয়ে চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫৩। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে নিশ্চিত হামে একজন ও হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা গেছে। আর উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা সিলেট বিভাগের। একই সময়ে ৭৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৪৭৪ জন।

এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬। এছাড়া এ পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি হাম বা এর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারি ও রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ দুজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা গেছে।

তবে এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ রাজধানীর ঢাকার বাইরেও অন্যান্য জেলায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তাই রোগটিকে এখন আর শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি দেশের জন্য বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৩২ জন। এ নিয়ে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৭৯। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮-এ।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং পানি জমতে পারে এমন পাত্র পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ একই সময়ে চলতে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি হামের টিকাদান নিশ্চিত করে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আরও