করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভা খানিকটা কমে এলেও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ার পাশাপাশি ‘হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’
নামে নতুন রোগে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছে।
সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে নতুন হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ রোগটি। এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের হাতে, পায়ে ও মুখে ফোসকা দেখা দেয়, মুখে ঘা হয়। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। খাবার খাওয়া কমিয়ে দেয়। মূলত সংক্রামক ভাইরাসের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।
তবে শিশু বিশেষজ্ঞরা এ রোগে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ড এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোট ১১৭টি শয্যার বিপরীতে অনেক বেশি শিশু ভর্তি আছে। এমনকি যাতায়াতের রাস্তায় শিশুর অভিভাবকরা অবস্থান নেয়ায় ওয়ার্ডগুলোতে প্রবেশ একরকম কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আ. ন. ম. তানভীর চৌধুরী বলেন, মূলত এ সময় শিশু ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি নতুন শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে এ বছরই প্রথম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ রোগে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছে। গত দুই মাস ধরে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচটি শিশু এ রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সময়ও অনেক শিশু এই রোগ নিয়ে চেম্বারে আসছে। ভয়ের কিছু নেই। এই রোগে শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। তবে আক্রান্ত শিশুদের কাছে অন্য শিশুরা যাতে না আসে তা খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত দেড় বছর থেকে শুরু করে ছয় বছরের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে এই রোগকে সাধারণ পক্স মনে করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসক না দেখিয়ে ওষুধ সেবন না করানোই ভালো।
মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম তার শিশুপুত্র সাপাহানকে হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ রোগ নিয়ে গত সপ্তাহে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার ছেলে ভালো আছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম গতকাল একদিন বয়সের নাতিকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে ভালো নেই বলে তিনি জানান।
এছাড়া বেশকিছু অভিভবকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জন্মের পর তাদের সন্তানের নিউমোনিয়া, খিঁচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়ায় শিশু ওয়ার্ডে এসেছেন।
রমেক হাসাপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. অতনু বসাক বলেন, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এর শতকরা ৫০ ভাগ নবজাতক। খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, ওজনস্বল্পতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন বয়সের শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বেশি ভর্তি হচ্ছে।
তিনি স্বীকার করেন, হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ রোগ নিয়ে এ বছর বেশি পরিমাণ শিশু হাসপাতালে আসছে। তিনি এই রোগে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে বেশি করে পুষ্টিকর খাওয়ার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্তদের এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।