বাজেট জুলাই আন্দোলনের প্রধান দুই থিমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: সিপিডি

প্রস্তাবিত বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাট কেনায় কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত রাখার সুযোগের উদ্যোগ সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনায় বৈষম্য বাড়বে।

জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। তাই এই বাজেট জুলাই আন্দোলনের মূল দুইটি থিমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিমত দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনায় এ অভিমত জানায় সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাট কেনায় কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত রাখার সুযোগের উদ্যোগ সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনায় বৈষম্য বাড়বে। এটা নৈতিকতার ওপর আঘাত। এভাবে আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হলে আবাসনের দাম বেড়ে যায়। আবাসন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যায়।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে বাজেট কমানো উচিত হয়নি বলে মনে করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নে নজর দেয়া দরকার। উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে সেখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শহর-নগরের ওপর চাপ কমবে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে— সিপিডি নৈতিকভাবে তা সমর্থন করে না। অথচ বাজেটে পাচারকৃত অর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট খতিয়ান উপস্থাপন করা হয়নি। একদিকে কালো টাকা বৈধ করার প্রস্তাব, অন্যদিকে অর্থপাচার নিয়ে নীরবতা— সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে এর বৈপরীত্য আছে বলে তিনি মনে করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, বাজেটের মূল দর্শন হওয়া উচিত ছিল রাজস্ব নীতির মাধ্যমে আয় বৈষম্য হ্রাস। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও এটি প্রধান দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। বাজেটে কর ও অন্য নীতির মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নীতিগত দিক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে না।

এ সময় সংস্থাটির গবেষণাসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও