তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিজাইন চূড়ান্ত অক্টোবরের আগে নয় : রিজওয়ানা হাসান

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘তিস্তা আমাদের নদী। ভাটির দেশের জনগণ হিসেবে এ নদীর ওপর আমাদের অধিকার রয়েছে। সরকার ২০১১ সাল থেকেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। কিন্তু সেটি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে কাজ থেমে নেই।’

তিস্তা নদী ঘিরে প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার চূড়ান্ত নকশা অক্টোবরের আগে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, এরপরই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা খিতাবখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন তিস্তা নদীর বাঁ তীরে পূর্ব সতর্কীকরণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘তিস্তা আমাদের নদী। ভাটির দেশের জনগণ হিসেবে এ নদীর ওপর আমাদের অধিকার রয়েছে। সরকার ২০১১ সাল থেকেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। কিন্তু সেটি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে কাজ থেমে নেই।’

তিনি জানান, ২০১৬ সালে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল চীন সরকার। সেটি বাস্তবায়িত না হলেও পরে জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

রিজওয়ানা বলেন, 'এই পরিকল্পনা যেন শুধু সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত না হয়ে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে হয়, সেজন্য তিস্তা তীরবর্তী পাঁচটি স্থানে গণশুনানি করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনার ওপর এলাকাবাসী মতামত দিয়েছে, যা চূড়ান্ত পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে তা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।'

তিনি আরো বলেন, ‘ডিজাইন চূড়ান্তে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগবে। তখনই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়নকাল ও চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার সময়সূচি চূড়ান্ত হবে। এরপর আশা করছি, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে।’

নদীর গতি ও প্রকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিস্তার অনেকটাই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নয়। এর অনেক কিছু নির্ভর করে উজানের দেশের ব্যবস্থাপনার ওপর।’

এ সময় নির্বাচন ও মব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমি যে বিষয়ের জন্য এসেছি, সে বিষয়েই কথা বলবো।’

রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে পরিদর্শনে ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. নুসরাত সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও