ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন জোড়া শিশু লাবিবা-লামিসাকে আলাদা করতে আরো দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে। আজ সোমবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করার কথা থাকলেও প্রজনন অঙ্গ ও মলদ্বারে ঝুঁকি থাকায় আলাদা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।
ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফ-উল হক কাজল বণিক বার্তাকে জানান, লামিসার যোনিদ্বার লাবিবার দেহে লেগে থাকায় অস্ত্রোপচারের ফলে সেখানে আঘাত লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ জন্য সে জায়গাটিতে সিলিকন বল (প্রজনন পথে টিস্যু তৈরির প্রক্রিয়া) বসানো হয়েছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে একবার স্যালাইন পুশ করে টিস্যু তৈরি করা হবে। এটি তৈরি হতে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
শিশু দুটিকেই তারা পরিপূর্ণ সুস্থ করতে চেষ্টা করছেন জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, সে কারণে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে যে, অস্ত্রোপচারে কারো যেন ক্ষতি না হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, অস্ত্রোপচারের আজ প্রথম ধাপ শেষ করেছেন চিকিৎসকরা। ৩২ জন চিকিৎসক এ অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। সকাল ৮ টায় শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২ টায় শেষ হয়। লাবিবা-লামিসাকে আলাদা করতে আরো দেড় মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে টিস্যুগুলো তৈরি হবে। পরবর্তীতে তাদের অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত টিস্যুগুলো কাজে লাগবে বলে জানান তিনি।
লাবিবা লামিসার বাবা লাল মিয়া বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, বর্তমানে তার দুই সন্তান নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছে। কালকের মধ্যে তাদের কেবিনে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জলঢাকার স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিলে জন্ম হয় লাবিবা লামিসার। তাদের বাবা জানিয়েছেন, জন্মের পর তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানের চিকিৎসকরা ঢামেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেসময় ঢাকায় আসতে পারেননি তিনি। ধারদেনা করে শেষ পর্যন্ত জন্মের নয়দিন পর তাদের ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। বর্তমানে শিশু দুটির যাবতীয় চিকিৎসা খরচ বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।