ডিক্যাব টকে রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের আমদানির ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক, আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্সের বাংলাদেশ থেকে আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের একটি বিষয়। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে চাই, তবে তা আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে করতে চাই। তিনি বলেন, সব কোম্পানির জন্য, বিশেষ করে ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ৬১টি অশুল্ক বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ডিক্যাব টকে এ কথা বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪৫০ কোটি ইউরোর বেশি। গত এক দশকে এ বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এর মধ্যে ফ্রান্সের কাঠামোগত বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্সের বাংলাদেশ থেকে আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের একটি বিষয়। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে চাই, তবে তা আরো ভারসাম্যপূর্ণভাবে করতে চাই। তিনি বলেন, সব কোম্পানির জন্য, বিশেষ করে ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে ফ্রান্সের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আরো ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ৬১টি অশুল্ক বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বাধা মোকাবেলা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের আমদানিতে তৈরি পোশাকের আধিপত্যের বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাকি আমদানির মধ্যে রয়েছে বড় বড় চুক্তির আওতাধীন পণ্য, উড়োজাহাজ ও মহাকাশ শিল্পের পণ্য, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি এবং কয়েকটি বড় ফরাসি কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও কার্যক্রম।

বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গতিশীল হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের ভারসাম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফ্রান্স বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের, নির্ভরযোগ্য, পূর্বানুমানযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, টেকসই অবকাঠামো এবং সবুজ অভিযোজনের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার ৮০ শতাংশের বেশি অর্থায়ন জলবায়ু সহনশীলতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও অনেক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশী সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে আরো বেশি আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিক্যাব টকে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস, সংগঠনের সদস্য এবং অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও