দিন-রাত লোকাল লেন থেকে শুরু করে সরাসরি লেনে বাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে এ অবৈধ তিন চাকার যান।
আমিনবাজার থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক বিভাজক দিয়ে সরাসরি লেন ও লোকাল লেন আলাদা করে দিয়েছে সওজ। সে হিসেবে তিন চাকার অটোরিকশা চলার কথা লোকাল লেন দিয়ে। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মূল লেন দিয়ে চলছে অটোরিকশা। বলিয়ারপুর, গেন্ডা, পাকিজা, রেডিও কলোনি, নবীনগর ও চন্দ্রা রোডে তাদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি।
জীবিকার দোহাই দিয়ে এবং বেশি ভাড়ার আশায় চালকরা মহাসড়কে উঠছেন। রেডিও কলোনি এলাকায় অটোচালক আহাদ জানান, এলাকার ভেতরে চালালে পোষায় না। বড় রাস্তায় বেশি যাত্রী ও ভালো ভাড়া পাওয়া যায়। আরেক চালক আব্দুল হক জানান, পুলিশ ধরলে ২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দিয়ে অটো ছাড়িয়ে আনেন। এলাকার ভেতরে যেখানে ১০-১৫ টাকা ভাড়া পাওয়া যায়, মহাসড়কে একই দূরত্বে চার যাত্রী নিয়ে ৪০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
এ বেপরোয়া চলাচলের পেছনে যাত্রীদের দায়ও কম নয়। স্বল্প দূরত্ব বা আরামের অজুহাতে তারা ঝুঁকি নিয়ে এসব বাহনে উঠছে। ফলে বড় যানবাহনের চালকরা বিপাকে পড়ছেন এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে উল্টো মামলা-হামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্প্রতি বাইপাইলে উল্টো পথে চলা একটি অটোরিকশা লরির নিচে পিষ্ট হয়ে তিনজন মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজে অটোরিকশার দোষ প্রমাণ হলেও মামলা হয় লরিচালকের বিরুদ্ধে।
এদিকে অটোরিকশা আটক ও জরিমানার প্রতিবাদে সম্প্রতি সাভার হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়েছেন চালকরা। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলেও মহাসড়কে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অভিযান দেখা যায়নি।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শাহাজাহান মিয়া জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ৪৬ কিলোমিটার এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অর্ধেকও নেই। তবে সামনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। যাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অটোরিকশা ধরলে যাত্রীরাই উল্টো সুপারিশ বা তর্ক করেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক চাপের কারণেও কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।