মেট্রোরেল সম্প্রসারণে চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনা, উড়াল রেলপথ ও একাধিক স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬ ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির অবকাঠামো উন্নয়নে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব আরো বলেন, নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকাবাসীর জন্য আধুনিক, দক্ষ ও আরামদায়ক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চার প্যাকেজে যেসব কাজ হবে তার মধ্যে রয়েছে, এমআরটি লাইন-১ এর ডিপো নির্মাণ। এ প্যাকেজের আওতায় ডিপোতে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

এমআরটি লাইন-১ এর উড়াল রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ। এ প্যাকেজের আওতায় পাতালপথ থেকে উড়ালপথে ওঠার সংযোগস্থল থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুলে তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণ। এ প্যাকেজের অধীনে ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার, ডিপো কন্ট্রোল সেন্টার, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের উড়াল রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ। এ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবেলা, যানজট কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরো এগিয়ে যাবে।

আরও