কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তার খোঁজে রিসোর্টটিতে আবার তল্লাশি চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল আজাদ আনোয়ার বলেন, ‘টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের তালিকায় ১১ জন থাকলেও ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ধ্বংসস্তূপের সব জায়গায় তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। কাঠের তৈরি ওপরের তলাগুলো ভেঙে নিচে পড়ায় কেউ চাপা পড়ে আছেন কিনা, তা দেখতে গতকাল নতুন করে তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, ‘নিখোঁজ একজন অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বরের নেটওয়ার্ক লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’
গত শনিবার সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে রোববার সন্ধ্যায় মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে নমুনা সংগ্রহের কাজ করেন। পরে নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ জানান, মরদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ এবং ফল মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়ায় তিন-চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পেতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে।’