আগামী বছরের জুলাই থেকে পায়রা বন্দর পুরোদমে চালু হবে বলে জানিয়েছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবাল। তিনি জানান, ১৯টি কম্পোনেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দরের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হবে।
বুধবার (২৫ জুন) সকালে বন্দরের প্রথম টার্মিনাল ভবন মিলনায়তনে ‘পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি, সম্ভাবনা ও অপারেশনাল কার্যক্রম’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় মাসুদ ইকবাল বলেন, বর্তমানে বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা সাড়ে ছয় মিটারের বেশি। এতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার মাদার ভেসেল ভিড়তে পারছে। ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণমূলক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরতা সাড়ে ১০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো গেলে এটি দেশের গভীরতম বন্দর হয়ে উঠবে। এজন্য দুটি ড্রেজার কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কয়লা হ্যান্ডলিংয়ের আয়ে খরচ মেটানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, রাজধানীর সঙ্গে বন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় সময় ও খরচ কমবে। নদীপথে ২৪ ঘণ্টা কনটেইনার পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ৬ লেনের সড়ক নির্মিত হলে যানজট ছাড়াই কার্গো পরিবহন করা যাবে।
সভায় জানানো হয়, পায়রা বন্দরে রয়েছে ৬৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৩ লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড, ১০ হাজার বর্গমিটার আধুনিক সিএফএস শেড ও একই সঙ্গে ১৫টি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা। এখন পর্যন্ত বন্দর ৫২৯টি বৈদেশিক জাহাজ ও ৩৪২৬টি দেশীয় লাইটারেজ হ্যান্ডেল করেছে, যার মাধ্যমে সরকার ২ হাজার ৭৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে।
সভায় আরো বক্তব্য দেন বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, শিপিং এজেন্ট ও প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। এ সময় তারা বন্দরের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বন্দর ব্যবহারকারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।